আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে ফিফার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আবু নাঈম সোহাগের কাঁধেই পুরো দায় চাপাচ্ছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেছে বাফুফে। সোহাগের সঙ্গে আর কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে জাতীয় ফুটবল সংস্থাটি।

 

আজ সোমবার জরুরি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

 

সোহাগের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে বাফুফে। মুর্শেদী বলেন, ‘‌পরবর্তীতে এই ফেডারেশনে যেন আর অংশ নিতে পারে এবং কাজ করতে না পারে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেনারেল সেক্রেটারি সর্বোচ্চ পোস্ট। আমার কাছে প্রায় চিঠি আসে। শুধু এটা নয়, প্রতিটি খরচের ব্যাপারে নিয়মিত চিঠি আসে এবং আমরা যার যারটা, উত্তর দেই। হয়তো এই জিনিসটা ওইভাবে পড়ে নাই, এজন্য। সে যেহেতু তার ক্ষমতাটা সঠিকভাবে ব্যবহার করে নাই, সে কারণে এই পদে তাকে আর কখনো স্থাপিত করা হবে না। সে ব্যাপারে আজকে বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকের সভায় ১০ সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কী হয়েছে, সে জিনিসটা দেখে আসলেই যদি তাকে বা অন্য কাউকে আমরা এ ধরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেখি, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতেও কার্পণ্য করব না।’

 

এই কেলেঙ্কারিতে ফাইন্যান্স কমিটির দায় দেখছেন না মুর্শেদী। পুরো দায় তিনিও চাপিয়ে দিয়েছেন সোহাগের কাঁধে। তিনি বলেন, ‘‌দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই। এখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি। দুর্নীতি বলতে, একটা জিনিস ক্রয় করতে যদি ১০ লাখ টাকার নিচে লাগে তাহলে কোটেশনের মাধ্যমে প্রকৃত সাপ্লাইয়ার এবং দশ লাখের উপরে লাগে তাহলে টেন্ডারের মাধ্যমে পেপারে দিয়ে ক্রয় করতে হয়, সেটা হয়ত প্রোপারলি হয় নাই। এ কারণে সেটার তদন্ত হয়েছে।’

 

আর্থিক কোনো লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ফাইন্যান্স কমিটি। এই কমিটির অগোচরে কোনো লেনদেন সম্ভব কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মুর্শেদী তুলে ধরেছেন সোহাগের ব্যক্তিগত দায়ের কথাই। তার কথায়, ‘‌জালিয়াতি হলে তিনি (সোহাগ) সেটা ব্যক্তিগতভাবে করেছেন। এখানে ফাইন্যান্স কমিটির কোনো জালিয়াতি নেই। (আমাদের কনসার্ন ছাড়া) সে পাঠিয়েছে বলেই তো নিষিদ্ধ হয়েছে। সে যদি সঠিকভাবে করত, তাহলে নিষিদ্ধ হতো না।’

 

সোহাগের দুর্নীতির বিষয়টি বাফুফে সভাপতি হিসেবে কীভাবে নিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন নিজের দায় দেখছেন না। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সোহাগ শাস্তি পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার কথায়, ‘‌আমার অফিসার ভুল করেছে-বিষয়টাকে আমি এভাবে দেখছি এবং নিচ্ছি। আমি তো ক্লার্ক হিসেবে এগুলো দেখতে পারব না। এটা সাধারণ বিষয় যে, ফিফা তাকে নিষিদ্ধ করেছে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে। তো এটা তার দায়।’