ক্রাইস্টচার্চে গতকাল ১৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ওপেনিং জুটিতেই পাকিস্তানকে ১০১ রান এনে দেন। এরপর পেস বোলার হাসান মাহমুদ আক্রমণে এসে একই ওভারে বাবর আজম ও হায়দার আলীকে সাজঘরে ফিরিয়ে জমিয়ে দেন ম্যাচ। যদিও খানিক উত্তেজনা শেষে জয় হলো পাকিস্তানেরই। মোহাম্মদ নওয়াজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সব আশা খড়কুটোর মতো উড়ে যায়। ২০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। নওয়াজের ব্যাটে ভর করেই শঙ্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত এক বল ও সাত উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। আগামীকাল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের।

 

নওয়াজ ব্যাটিংয়ে নামার সময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৪৩ বলে ৭৩ রান। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী সব শটে তিনি চাপটা বাংলাদেশের দিকেই ঠেলে দিতে সমর্থ হন। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ২৩ বলে ৫৩ রান দিয়ে দলের হার ত্বরান্বিত করেন। সাকিব আল হাসানও ৩ ওভারে দিয়েছেন ২৮ রান। এর আগে লিটন দাস (৪২ বলে ৬৯) ও সাকিব আল হাসানের (৪২ বলে ৬৮) দারুণ দুই হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ১৮ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১৬১ রান তুলে নেয়ার পরও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় সংগ্রহটা বড় করতে পারেনি টাইগাররা।

 

নিজে ভালো খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি সাকিব। হার শেষে তিনি বলেন, এটা ছিল কঠিন (সিরিজ)। আজ (গতকাল) আমরা সেরা ম্যাচ খেলেছি। ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে আমরা আরো রান করতে পারতাম। আরো বেশি রান পেলে আমরা আরো ভালো অবস্থানে থাকতাম। কিন্তু ইনিংসের শুরুতে আপনি যদি আমাকে ১৭০ রান দিতেন, আমি সেটিই নিতাম। আমার বোলিংটাও প্রত্যাশামতো হয়নি।

 

১৬ অক্টোবর প্রথম রাউন্ড দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হচ্ছে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ। এ নিয়ে সাকিব বলেন, বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের পরিষ্কার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রশংসা করে রিজওয়ান বলেন, বাংলাদেশ বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। তারা সত্যিই ভালো বোলিং করেছে। আমরা প্রথম ১০ ওভার উইকেট অক্ষত রাখতে চেয়েছি। শেষ দিকে আমাদের কাজটি সহজ করে দেয়ায় নওয়াজকে কৃতিত্ব দেব। সে-ই ইনিংসটা মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জয় অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। নিউজিল্যান্ড ঘরের মাঠে খেলবেও আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকবে। 

 

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (লিটন ৬৯, সাকিব ৬৮; নাসিম ২/২৭, ওয়াসিম ২/৩৩)। পাকিস্তান: ১৯.৫ ওভারে ১৭৭/৩ (রিজওয়ান ৬৯, বাবর ৫৫, নওয়াজ ৪৫*; হাসান ২/২৭, সৌম্য ১/৬)। ফল: পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: মোহাম্মদ রিজওয়ান (পাকিস্তান)।