অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে হার মানল বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংও অজিদের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। ৩ বল ও এক উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। এ ম্যাচে হারলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।

আজ রোববার মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। বল হাতে শরিফুল ইসলামে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকারের পরও থামানো যায়নি অস্ট্রেলিয়াকে।

দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকার ফেরার পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে সে চেষ্টা তেমন সুফল বয়ে আনেনি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।

এমন পরিস্থিতিতে সংকট থেকে দলকে টেনে তোলেন লিটন ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন তারা। এরমধ্যে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস। পরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

জবাবে ব্যাট হাতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় তারা। এ সময় আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস ও ম্যাট রেনশোকে ফেরান শরিফুল। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরালে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।

তবে সংকট থেকে অজিদের আবার এগিয়ে নেন কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। চার-ছক্কায় ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বছর বয়সী এ ওপেনার। এরপর লাবুশেন ফিরলেও ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়েন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। গ্রিনের ২৭ রানের ইনিংসের পর অলিভার পিকও ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।

টাইগারদের পক্ষে লড়াইটা চালিয়ে যান শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর তার ঝুলিতে ওঠে আরো একটি উইকেট।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

আগামী ১৭ জুন থেকে চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। 
সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ২৭৪/৫, ৫০ ওভার (হৃদয় ৮৩, লিটন ৫৮*, মোসাদ্দেক ৫৬*, রেনশ ২/৪৪)। 

অস্ট্রেলিয়া : ২৭৭/৯, ৪৯.৩ ওভার (কনোলি ১৪৯, পিক ২৭, শরিফুল ৬/৪৮)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : কুপার কনোলি (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ সেরা : মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ।