ইংল্যান্ডের জার্সিতে জেমস অ্যান্ডারসনের ২১ বছরের দীর্ঘ এক অধ্যায়ের শেষ হলো। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১৮৮টি টেস্ট খেলেছেন, উইকেট নিয়েছেন ৭০৪টি, যা টেস্ট ইতিহাসেরই তৃতীয় সেরা ও ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা। শুক্রবার লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিন সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে গেলে ইনিংস ও ১১৪ রানের বিশাল জয় পায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এর মধ্য দিয়েই স্টাইলিশ আর পারফেক্ট এক ফাস্ট বোলিং গ্রেটের বিদায় হলো।
টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট শিকারে অ্যান্ডারসনের ওপরে রয়েছেন শুধু শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরণ (১৩৩ ম্যাচে ৮০০) ও অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন (১৪৫ ম্যাচে ৭০৮)। হয়তো আর একটি টেস্ট খেলতে পারলেই ওয়ার্নকে টপকে যেতে পারতেন। এরপরও অতৃপ্তি নেই হয়তো। পেস বোলারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ৭০০ উইকেট নিতে পেরেছেন। এমনকি দুইয়ে থাকা স্টুয়ার্ট ব্রডের উইকেট ৬০৪, আর গ্লেন ম্যাকগ্রা ৫৬৩ উইকেট নিয়ে আছেন তিনে।
লর্ডসে শুক্রবার দিনের খেলা শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়রা ‘গার্ড অব অনার’ দিয়েছেন ইংলিশ কিংবদন্তিকে। এরপর দ্রুতই ক্যারিবীয়রা বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয় বরণ করে। এর মধ্য দিয়ে অ্যান্ডারসনের যাত্রাও থেমে যায়। বিদায়বেলায় অ্যান্ডারসন বললেন, ‘অবিশ্বাস্য ২০টি বছর। দর্শকদের কাছ থেকে এতটা সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। যতবার এ জার্সিটি পরেছি চেষ্টা করেছি ইংল্যান্ডকে জেতাতে কিংবা জয়ে সাহায্য করতে। টেস্ট শুরুর দিন আমার মেয়েরা বেল বাজাল, আজ (শুক্রবার) দুই দল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আমাকে সম্মান দেখাল, এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অবিশ্বাস্য।’
অনেক ম্যাচে ইংল্যান্ডকে জিতিয়েছেন অ্যান্ডারসন। তার কাছে ইংল্যান্ডের হয়ে মধুর স্মৃতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেছেন, ‘ম্যাচ ও সিরিজ জয়ই আমার কাছে অগ্রাধিকার পেত সব সময়। অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছি, ভারতে জিতেছি ও বিশ্বের ১ নম্বর দল হয়েছি—এসব স্মৃতি আমার মনে জাগ্রত থাকবে। আর মহান কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছি, যা বিশেষভাবে মনে থাকবে।’
বিদায় বলাটা কঠিনই। তবে অ্যান্ডারসন আবেগটা সামলে নিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আবেগটা ধরে রাখতে পেরেছি। যেভাবে দুই দল আর দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে সকালটা আমার জন্য অনেক আবেগের হয়ে উঠেছিল। এখনো চোখের পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি অনেক গর্বিত। ২০ বছর ক্রিকেট খেলা অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার ফল। চোটমুক্ত থেকে সেটা করতে পেরে আমি অনেক সন্তুষ্ট। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা কাজ, এত দীর্ঘ সময় ধরে সেটা করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো ভাবেননি অ্যান্ডারসন। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘এখনো অত দূর পর্যন্ত ভাবিনি। এ গ্রীষ্মে দলের সঙ্গে থাকব, যত দূর পারি সাহায্য করব। এরপর দেখি জীবন কোথায় নিয়ে যায়।’
ইংলিশ পেস বোলিংয়ের ‘ব্যাটন’টা ২৬ বছর বয়সী পেসার গাস অ্যাটকিনসনের হাতেই কি দিয়ে গেলেন অ্যান্ডারসন? অভিষেক ম্যাচেই ১২ উইকেট শিকার করে ইংল্যান্ডকে বড় জয় এনে দিলেন তিনি। জয় শেষে অ্যাটকিনসনের মুখে অ্যান্ডারসনের প্রশংসাই ঝরল। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি সপ্তাহ কাটল। আমি জিমিকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এখানে তার শেষ টেস্টে খেলতে পারাটা আমার জন্য আনন্দের, সেই সঙ্গে ভালো করতে পেরে আমি আরো আনন্দিত। বড় হওয়ার সময়কালে এখানে এসে জিমির খেলা দেখেছি। মিডঅফে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, আমি তো জিমিকে কতবার টিভিতে দেখেছি। এটা ছিল অবিশ্বাস্য।’
যদিও এখনই ইংল্যান্ড দল ছেড়ে যাচ্ছেন না জিমি। চলতি গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ব্যাকরুম স্টাফ হিসেবে থাকছেন। কাজ করবেন পেস বোলিং ‘মেন্টর’ হিসেবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড।










