গত শনিবার ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি টাই হয়। ১-১-এ সমতা থাকায় সিরিজের ট্রফি ভাগাভাগি করতে হয় দুই দলকে। ওইদিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আম্পায়ারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ভারতীয় দলনায়ক হারমানপ্রিত কাউর। তিনি মাঠেও ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণ করেন।

 

হারমানপ্রিতের এই আচরণ ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য দুর্নাম বয়ে এনেছে বলে মনে করেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের অলরাউন্ডার মদন লাল। তিনি হারমানপ্রিতের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এদিকে, ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আঞ্জুম চোপড়াও উত্তরসুরির এই আচরণে বিস্মিত হয়েছেন।


 

মদন লাল টুইট করেছেন, ‘বাংলাদেশের নারীদের বিরুদ্ধে হারমানপ্রিতের আচরণ খুবই প্যাথেটিক। সে খেলাটির চেয়ে বড় নয়। সে ভারতীয় ক্রিকেটে বড় দুর্ণাম বয়ে এনেছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত বিসিসিআইয়ের (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড)।’

 

আম্পায়ার তানভির হায়দার আউটের সিদ্ধান্ত দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে হারমানপ্রিত ব্যাট দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙেন। এরপর মাঠ ছাড়ার সময় আম্পায়ারকে চোখ রাঙানি দেন।

 

রোমাঞ্চকর লড়াইশেষে ম্যাচটি টাই হয়ে যায়। কিন্তু সিরিজ জিততে না পেরে ক্ষুব্ধ হারমানপ্রিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা করেন। এমনকি ট্রফি নিয়ে ছবি তোলার সময় তিনি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে বলেন, শুধু তোমরা কেন। আম্পায়াররা তোমাদের টাই করে দিয়েছে, তাদেরও ডাকো, একসঙ্গে ছবি তুলি।

 

তার এই অক্রিকেটীয় আচরণে হতবিহ্বল নিগার বাংলাদেশ দল নিয়ে তাদের ড্রেসিংরুমে চলে যান।

  

ভারতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আঞ্জুম চোপড়া এই আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘ভারতীয় দল যদি মনে করে যে কিছু সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে যায়নি, সেটা ভিন্নভাবে সামাল দেয়া যেত।কেন ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণীতে অধিনায়ককে এভাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে হলো? হতাশা এভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। অসন্তুষ্টি প্রকাশে ক্ষতি নেই। কিন্তু সেটা কখন, কীভাবে করবে, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, ওর শব্দ চয়নে আরো যত্মশীল হওয়া উচিত ছিল।’