এবারের বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সবার আগে ফাইনালে নাম লেখাল ফরচুন বরিশাল। আজ সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ১০ রানে হারিয়ে দেয় সাকিব আল হাসানের বরিশাল। হারলেও আরেকটি সুযোগ থাকছে কুমিল্লার জন্য। এজন্য বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তাদের জিততে হবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে। আজ বিকেলে এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে ৭ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল চট্টগ্রাম।

 

টস জিতে বরিশালকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কুমিল্লা। মুনিম শাহরিয়ার ও ক্রিস গেইল ৬.২ ওভারে ৫৮ রান তুলে ভিত গড়ে দিলেও পরে এটি কাজে লাগাতে পারেননি অন্যরা। আগুন ফর্মে থাকা সাকিবও কাল ব্যাট হতে ব্যর্থ হন। ফলে ২০ ওভারশেষে ৮ উইকেটে ১৪৩ রানের সাদামাটা স্কোর গড়ে বরিশাল।

 

শাহরিয়ার ৩০ বলে ৪৪, গেইল ১৯ বলে ২২ রান করেন। শহিদুল ইসলাম ২৫ রানে তিনটি ও মঈন আলী ২৩ রানে দুটি উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে কুমিল্লাও দারুণ সূচনা করে। ওপেনিং জুটিতে মাহমুদুল হাসান জয় ও লিটন কুমার ৬২ রান তুলে দেন। যদিও এরপর বরিশাল বোলাররা অনবদ্য বোলিংয়ে ১৩৩ রানে আটকে দেন কুমিল্লাকে। মেহেদী হাসান রানা ১৫ রানে, শফিকুল ইসলাম ১৬ রানে ও মুজিব উর রহমান ৩৩ রানে দুটি করে উইকেট নেন। শেষ ওভারে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ১৮ রান তোলার চ্যালেঞ্জে ব্যর্থ হয় কুমিল্লা। ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রানা। 

 

সোমবার দুপুরে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে খুলনা টাইগার্সকে ৭ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দুই দলে বাংলাদেশের একঝাঁক তারকা খেললেও লড়াই জমিয়ে দিলেন মূলত দুই কারিবিয়ান। একদিকে চ্যাডউইক ওয়ালটন, অন্যদিকে আন্দ্রে ফ্লেচার। ওয়ালটনের ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের কাছে ব্যর্থ হয়ে যায় ফ্লেচারের ৮০ রানের হার না মানা ইনিংসটা।

 

ওয়ালটনের বিধ্বংসী ব্যাটিংই চট্টগ্রামকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এনে দেয় ৫ উইকেটে ১৮৯ রানের সৌধ, যা টপকাতে পারল না খুলনা। এমনটি আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফ্লেচারের দুর্দান্ত এক ইনিংসও খুলনাকে তীরে পৌঁছে দিতে পারেনি। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৮ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৮০ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেও দলকে জেতাতে পারলেন না ফ্লেচার। মুশফিকুর (২৯ বলে ৪৩) ও ইয়াসির আলী (২৪ বলে ৪৫) দারুণ সাপোর্ট দিলেও অন্যদের ব্যর্থতায় শেষ হাসি হাসা হলো না টাইগারদের।