দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেড কোচের
দায়িত্ব নেয়া চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘চলে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে
অনুসরণ করছি। সময়ে সময়ে খেলোয়াড় ও কমকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল। বাংলাদেশের জন্য
আমার সবসময়ই সফট কর্নার ছিল। কারণ এটা আমার প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট ছিল।
ফিরে আসার তাড়না সবসময়ই ছিল।’
উল্লেখ, প্রথমবার বাংলাদেশের হেড কোচ হওয়ার
আগে তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজ্য দলের কোচ। এরপর বাংলাদেশ ও
শ্রীলংকা জাতীয় দলের হেড কোচের পদ সামলেছেন তিনি। নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচিং ছেড়ে
আবারো বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিলেন তিনি।
২০১৭ সালে অনেকটা আনাকাঙ্ক্ষিতভাবে শেষ হয়
তার বাংলাদেশ অধ্যায়। চুক্তি শেষ না করেই তিনি দায়িত্ব নেন শ্রীলংকা জাতীয় দলের। তাও
ইমেইলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন হাথুরু। এরপরও তাকে ফেরাল বাংলাদেশ। এই কোচ
ভাবেননি এতটা দ্রুতই তিনি ফিরবেন। তার কথায়, ‘ভাবিনি এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসব।
গত টি২০ বিশ্বকাপের সময় যখন সভাপতি (বিসিসি সভাপতি) ও কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা
হলো, কিছু ব্যাপারে কথা হয়েছে। এরপর আমার মনে হয়েছে এটাই সঠিক সময় ফিরে আসার। সামনে
২০২৩ বিশ্বকাপ আছে,
আমার নিউ সাউথ ওয়েলস সিজনটা একটু দেরি ছিল। আমার মনে হয়েছে
এটাই সঠিক সময় ফিরে আসার।’
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সাল থেকে
২০১৭ সাল পর্যন্ত সাকিব, তামিমদের দায়িত্বে ছিলেন হাথুরুসিংহে। দ্বিতীয় দফায় আগামী
দুই বছরের জন্য তাকে চুক্তিবদ্ধ করেছে বিসিবি। তিন ফরম্যাটেই তিনি হেড কোচের
দায়িত্ব সামলাবেন। আগামীকাল শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে টাইগাররা,
সেখানে উপস্থিত থাকবেন হাথুরুসিংহে। ১ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ
শুরু হবে। এরপর টি২০ সিরিজ। ইংলিশরা যাওয়ার পরই আইরিশদের বিপক্ষে তিন ফরম্যাটের
হোম সিরিজ।
হাথুরুর প্রথম অধ্যায়ে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড
ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারায় বাংলাদেশ। আরো অনেক সাফল্য আছে তার। এবার তার অধীনে
ঘরের মাঠে কেমন ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঘরের
মাঠের সুবিধা বলে কি বোঝায়?
যখন আমরা নিউজিল্যান্ড যাই, কি ধরনের উইকেটে খেলি? ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া
কি করে তাদের ঘরের মাঠে?
ভারত এখন ঘরের মাঠে কি করছে? দেশের বাইরে গেলে
আমাদের যা আছে,
তা দিয়েই ম্যানেজ করতে হবে। যদি মিসাইল না তাহলে তুমি
কীভাবে লড়াই করবে। আমাদের তো গেরিলা যুদ্ধ করতে হবে, তাই না? ওদের
আমাদের ঘরে আসতে দাও,
আমরা ছোট্ট ছোট্ট অস্ত্র দিয়ে লড়ব। যদি আমাদের অস্ত্র না
থাকে তাহলে তো আমরা কিছু করতে পারব না। আমরা শুধু খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে পারি।’










