ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক কৃতী মিডফল্ডার ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডের কোচিংয়ে এ সাফল্য পেল দলটি।

ঝিমিয়ে পড়া ক্লাবটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ভার পড়ে ল্যাম্পার্ডের ওপর। তিনি ১৮ মাসে বদলে দিলেন ক্লাবটিকে। চ্যাম্পিয়নশিপে শুক্রবার ব্ল্যাকবার্নের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে প্রিমিয়ার লিগের টিকিট নিশ্চিত করে কভেন্ট্রি। এবার কভেন্ট্রির চোখ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপায়।

এভারটনে ১২ মাসের (২০২২-২৩ মৌসুম) দায়িত্ব পালনে ও চেলসিতে ২০২৩ সালে অন্তর্বর্তী কোচের দায়িত্ব পালনকালে ল্যাম্পার্ডের ভাবমূর্তি বেশ ক্ষুণ্ন হয়। চেলসিতে ওই সময় ১১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জয় পান তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চেলসির কোচ হিসেবে দারুণ সফল ছিলেন তিনি। ওই সময় ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তিনি ব্লুজদের লিগে চতুর্থ স্থানে তোলেন আর নিজের প্রথম মৌসুমে দলকে নিয়ে যান এফএ কাপ ফাইনালে। ২০১৯ সালে ডার্বির কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নশিপে প্লে-অফে উঠতে না পারা এবং এভারটন ও চেলসিতে ব্যর্থতা তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। যদিও এবার কভেন্ট্রি সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে তুলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন তিনি। এবারের সাফল্য তার ক্যারিয়ারে যোগ হতে পারে নতুন মাত্রা।

ল্যাম্পার্ডের আগে কভেন্ট্রির কোচ ছিলেন মার্ক রবিনস। প্রিমিয়ার লিগের খুব কাছাকাছি ছিল তারা। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালে দলটি টাইব্রেকারে হেরে যায় লুটন টাউনের কাছে। রবিনসের সময় কভেন্ট্রি এফএ কাপ সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায়। এ ক্লাবটিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই ল্যাম্পার্ডকে কোচের দায়িত্ব দেয়া হলো।

২০২৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি রাইটনে সব স্টাফ, শেফ আর ক্লিনারদের একত্রে জড়ো করলেন। তিনি সবাইকে বললেন, টেবিলের অবস্থানের চেয়েও ভালো দল কভেন্ট্রি সিটি। ল্যাম্পার্ড দায়িত্ব নেয়ার সময় টেবিলে ১৭তম স্থানে ছিল কভেন্ট্রি। মৌসুম শেষ করল তারা প্লে-অফের সেমিফাইনালে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়ে।

ল্যাম্পার্ডের কৌশল আর দর্শন সঠিকই ছিল। তবে এমন হার মেনে নেয়া কঠিন ছিল দলটির জন্য। এরপর গ্রীষ্মের দলবদলে সামান্য কিছু পরিবর্তন হয় দলে। ৩৫ লাখ পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলা থেকে ডিফেন্ডার কেইন কেসলার-হেইডেন ও ইপসউইচ থেকে ৪০ লাখ পাউন্ডে লুক উলফেনডেনকে কিনে নেয় কভেন্ট্রি। ব্রাইটন থেকে ধারে নেয়া হয় গোলকিপার কার্ল রাশওর্থকে। তারা সবাই ল্যাম্পার্ডের কারণে কভেন্ট্রিতে নাম লেখান। আবার বেশ কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ থাকলেও কভেন্ট্রিতেই থেকে যান ববি টমাস, আর ভল্ফসবুর্গের প্রস্তাবে ‘না’ বলেন মিলান ফন এউইক। ল্যাম্পার্ডের মতো বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের খেলোয়াড়কে কোচ হিসেবে পেয়ে মুগ্ধ হন খেলোয়াড়রা।