ম্যাচের ৮৯ মিনিট শেষে ২ গোলের লিডে এগিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটিজেনদের জন্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন তখন স্রেফ ৬-৭ মিনিটের অপেক্ষা। কিন্তু সেখানেই রিয়াল মাদ্রিদ লিখল রূপকথার গল্প। ৭৩ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের গোলে এগিয়ে যায় অতিথিরা। ৯০ ও ৯১ মিনিটে রদ্রিগোর জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়ায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ৯৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রিয়ালের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের পূর্ণতা দিলেন করিম বেনজেমা।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বুধবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানসিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৪-৩ গোলে জেতে সিটি । দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
৫ মিনিটের এমন অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের রহস্য মূলত ‘গেম ওভার’ এবং রিয়ালের ঐতিহ্যকেই দেখা হচ্ছে। খেলা শেষ, রিয়ালের আশা অনেকটাই ফিকে। এটাকেই কাজে লাগিয়েছেন কোচ আনচেলত্তি। রিয়াল কোচ বলেন, যখন সবাই ভেবেছিল খেলা শেষ হয়ে গেছে, তখন এটি ভালো সমন্বয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি এতে লাগিয়েছি। জেতার জন্য কিছুটা ভাগ্যও লাগে।
তিনি আরো বলেন, তারা (ম্যানসিটি) খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল; কিন্তু দল কখনো হাল ছাড়েনি। আমাদের সবকিছুই ছিল-ত্যাগ, ভাগ্য এবং শক্তি। এটা একটা তীব্র ম্যাচ ছিল, যেটায় আমরা খুব ভালো খেলেছি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই মৌসুমে অদ্ভুত কিছু ঘটেছে। আমরা খুব শক্তিশালী সব দলের বিপক্ষে খেলেছি।
দলের এমন অবদানে কোচ সব কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড় ও ভক্তদের। তিনি বলেন, এই কৃতিত্ব খেলোয়াড় ও ভক্তদের, যাদের চেষ্টা, চেষ্টা এবং চেষ্টায় এ পর্যন্ত আসা। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সির ওজন এবং ক্লাবের ঔদ্ধত্যও একটি ভূমিকা পালন করে।
রিয়ালের জয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন গোলকিপার থিবো কোর্তায়া। ম্যানসিটির অনেকগুলো শট ঠেকিয়েছেন বেলজিয়ান গোলকিপার। না হয় রিয়ালের ফাইনালে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।
ম্যাচের পর কোর্তোয়া বলেছেন, নামটি যখন রিয়াল মাদ্রিদ, সম্ভব তখন সবকিছুই। এটা স্রেফ অসাধারণ। আমরা এমন সব বড় ক্লাবকে ছিটকে দিয়েছি, যারা অনেক অনেক অর্থ খরচ করে দল গড়েছে। ওরা অর্থ দিয়ে দল গড়েছে, আমাদের আছে ইতিহাস! আর রিয়াল মাদ্রিদ যখন ফাইনাল খেলে, তারা জয়ের জন্যই সেখানে পা রাখে।
তিনি আরো বলেন, এই ক্লাবের গ্রেটনেস হলো, যখন মনে হয় সবকিছুর সমাপ্তি, তখনো এই ক্লাব হাল ছাড়ে না। লড়ার প্রেরণা জোগায়। এটা এমন একটা অনুভূতি, যা শক্তি জোগায় লড়াই চালিয়ে যেতে, বিশ্বাস জোগায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা রাখার।
শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ৬০ মিনিট পর্যন্ত পিএসজির কাছে ২ গোলে পিছিয়ে থাকা। দ্বিতীয় লেগের নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট বাকি থাকার সময়ও চেলসির বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হারের মুখে। দ্বিতীয় লেগের ৮৯ মিনিট পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ৫-৩ গোলে পরাজয়ের শঙ্কা। সেখান থেকে তিন ফুটবল পরাশক্তিকে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
এ নিয়ে ১৭ বার ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চের ফাইনালে উঠল রিয়াল মাদ্রিদ। আগে ১৬ ফাইনাল খেলে ১৩ বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
ম্যাচ শেষে ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা ‘দুঃখিত’ বলেছেন! রিয়ালের বিপক্ষে ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের আত্মসমর্পণের জন্য। তবে তিনি
নিশ্চিত নন,
পাঁচ বছরে
প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ শিরোপা তাড়া করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের ওপর মানসকি প্রভাব পড়েছে
কিনা।
সিটি বস বলেছেন,
খেলোয়াড়রা সব
দিয়েছে। আমরা খুব কাছাকাছি ছিলাম কিন্তু তা করতে পারিনি। ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনা
ঘটে। দর্শকরা তাদের সমর্থন করলে এটি আরো কঠিন।
গার্দিওলা বলেছেন, কামব্যাক করার জন্য আমাদের সময় প্রয়োজন। এখন প্রিমিয়ার লিগের শেষ চারটি
ম্যাচে আমাদের ফিরতে হবে। খেলোয়াড়রা বিমর্ষ।
মার্কা,
ডেইলি মেইল










