উরুগুয়ে, ইতালি, ইংল্যান্ড, পশ্চিম জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স—এ ছয়টি দেশ স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এবারের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা মেক্সিকো শিরোপা জিতে নেবে—এমন প্রত্যাশা ওই তিন দেশের সমর্থকরাও হয়তো করেন না। তবে নিজেদের আগের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিশ্চয়ই দেখছে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো দারুণ সূচনায় সেই সম্ভাবনা জোরালো করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মেক্সিকো নিজেদের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুক্রবার রাতে বসনিয়া হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কানাডা। গতকাল সকালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে সহস্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কর্তৃত্ব করে জিতেছে মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল। এ ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন। এ জয় যুক্তরাষ্ট্রকে নকআউটের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের সহায়তায় বল নিয়ে আক্রমণে যান ওয়েস্টন ম্যাককেনি। তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। এর মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ আসরের প্রথম আত্মঘাতী গোলের রেকর্ডটি নিজের নামের পাশে জড়ান তিনি।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে পুলিসিক ও টাইলার অ্যাডামসের পাস থেকে বল জালে জড়ান ফরওয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। তবে পুলিসিক অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি। এর ৩ মিনিট পর পুলিসিকের পাসে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে জালে জড়ান বালোগুন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে টিলম্যানের বাড়ানো থ্রু-পাস ধরে বক্সে ঢুকে আবারো লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিশ্বকাপে জোড়া গোল করা মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় এখন বালোগুন। ১৯৩০ সালে অভিষেক আসরে হ্যাটট্রিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট পাতেনাউদে। সেটাও ছিল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে!
বালোগুনের জোড়া গোলে ভর করেই ৩-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল পরিশোধে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে প্যারাগুয়ে। তবে লাতিন দলটির ফরওয়ার্ডরা মার্কিন রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারছিলেন না কিছুতেই। অবশেষে ৭৩তম মিনিটে গোলের দেখা পায় তারা। ব্রাজিলে জন্মগ্রহণ করা মাওরিসিওর গোলে ব্যবধান কমায় প্যারাগুয়ে। ব্যবধান ৩-১ হলে আবারো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন জিওভানি রেইনা। এ গোলে স্বাগতিক দলের বড় জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
বিশ্বকাপে এটা যুক্তরাষ্ট্রের যুগ্মভাবে বৃহত্তম জয়। ১৯৩০ আসরে প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামকে ৩-০ গোলে হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছিল মার্কিনরা। সেবার তারা তৃতীয় স্থান পেয়েছিল, যা ফুটবল বিশ্বকাপে এখনো তাদের সেরা ফল।
শুক্রবার রাতে টরন্টোয় স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে ইওভো লুকিচের গোলে ২১ মিনিটেই লিড নেয় বসনিয়া হার্জেগোভিনা। এই গোলটি সাময়িকভাবে গোটা গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেয়। বদলি খেলোয়াড় কাইল লারিন ম্যাচের ৭৮ মিনিটে সমতা আনলে স্বস্তি ফেরে গ্যালারিতে। মাঠে নামার ১২১ সেকেন্ডের মধ্যে গোল করেন লারিন। এরপর বাকিটা সময় স্বাগতিকরা প্রচণ্ড চাপে রাখে বসনিয়াকে। যদিও আর গোল আদায় করে নিতে পারেনি। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আলফনসো ডেভিসদের।










