ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসন্ন। এ বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ভারতের
মাটিতে বসবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আসর। এই আসর সামনে রেখে বাংলাদেশের খেলোয়াড় পুল
বাড়াতে চান হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। যদিও তা কোনোভাবেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে
ওয়ানডে সিরিজের বিনিময়ে নয়। এই সিরিজে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। একে
কেউ কেউ মাহমুদউল্লাহর শেষ দেখছেন। যদিও হাথুরুসিংহে জানালেন, এটা নিশ্চিতভাবেই
মাহমুদউল্লাহর শেষ নয়।
দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েই বড় সাফল্য পেয়েছেন
হাথুরুসিংহে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা ১-২ এ হারলেও টি২০ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে
জিতে নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে টাইগাররা। এই জয়টা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে হাথুরুর।
তিনি এবার ইয়াসির আলী, তৌহিদ হৃদয়, রনি তালুকদার, নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের
মতো দলে খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে দেখতে চান, যাতে তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারেন।
শনিবার সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে। এই
ম্যাচ সামনে রেখে আজ সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে হাথুরু বলেন, ‘তারা যেভাবে ঘরোয়া ক্রিকেট
খেলে, তেমন স্বাধীনতা নিয়েই এই সিরিজে খেলতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স
দেখেই আমরা তাদের নিয়েছি। তাদের পারফরম্যান্স ও ব্যাটিংয়ের নির্দিষ্ট পন্থা, পেস ও
স্পিনের বিপক্ষে তাদের রেকর্ড দেখেই আমরা তাদের সাহস দিচ্ছি, আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছি
যে, তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন পারর্ম করে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেন তেমনটি করে।
আমরা দেখতে চাই, কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে।’
জয় কিংবা হারের চেয়েও আমি যে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি সেটি
হলো বৈশিষ্ট্য। একজন খেলোয়াড় কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় ও কীভাবে চাপকে মোকাবেলা
করে। পারফরম্যান্স ওঠা-নামা করতেই পারে। জস বাটলার সাদা-বলের ক্রিকেটে বিশ্বের
সেরা ক্রিকেটার, কিন্তু আমরা সত্যিই তাকে চাপে রেখেছি (টি২০তে)। আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি,
শরীরী ভাষা ও ফিল্ডিং নিয়ে ভীষণ সন্তুষ্ট। এমনকি দুটি সিরিজ হারলেও আমি এ বিষয়গুলো
খুঁজতাম ও বিবেচনায় রাখতাম। তখন আমি দেখছিলাম, আমরা সঠিক পথেই আছি।’
এদিকে, মাহমুদউল্লাহর ভবিষ্যত নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত টেনে
দিতে চান না হাথুরুসিংহে। এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না তার
সেরা সময় ফেলে এসেছে। আসলে বিশ্বকাপের আগে আমরা আমাদের পুলটা বাড়াতে চাই। বিশ্বকাপের
আগে যদি কোনো কিছু ঘটে তখন প্রয়োজন হলে আমরা খেলোয়াড় খুঁজে নিতে পারব। আমাদের সেটি
দ্রুতই করতে হবে, কেননা বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১৫টি ম্যাচ রয়েছে। আমরা এমন সব
খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চাই, মনে করি যারা দায়িত্ব পালনে সক্ষম। সে (মাহমুদউল্লাহ) এখনো
পরিকল্পনাতেই আছে। তার অভিজ্ঞতা অনেক। আমরা চাই আরো কিছু খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে পদচিহ্ন রাখুক। কেবল দক্ষতার প্রশ্নেই নয়, তারা এই পর্যায়ে প্রয়োজনের সময় ভূমিকা
রাখতে পারে কিনা, সেটি বিবেচ্য। তার মানে এই নয় যে, যদি ওই ছেলেটি ভালো খেলে, তবে
মাহমুদউল্লাহ শেষ। সে এখনো আমাদের পরিকল্পনায় আছে।’
হাথুরুসিংহে জানান, ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো করা পেস বোলাররা
এবার সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও উইকেট থেকে সাহায্য পাবে। এ
নিয়ে লংকান কোচ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো উইকেটই মনে হলো। পেসারদের জন্য,
এমনকি স্পিনারদের জন্যও ভালো। আমি সব সময়ই স্পিনারদের এগিয়ে রাখি। তারা
কৌশলগতপূর্ণভাবে ত্রাতা আর দক্ষও। কিন্তু এবার আমার পেসারদের সময় আসবে। সেটি করতে
পারলে আমি খুশিই হবো।’










