চলতি ৩৫তম ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে অদম্য সিংহ, বাফানা বাফানা ও দ্য সুপার ঈগলসহ আরো অনেক দল। এ তিনটি হলো ক্যামেরুন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার ডাকনাম। এ তিনটিসহ বাকিদের ডাকনামগুলো গৌরবের সঙ্গে বয়ে চলেছেন তাদের সমর্থকরা। গতকাল রাতে শুরু হয়েছে শেষ ষোলোর লড়াই। ২৪ দলের লড়াইটা এখন নেমেছে ১৬ দলে। এ মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয়া যাক, আফ্রিকার ২৪টি দলের কাদের কোন নামে ডাকা হয়।
মরক্কো, দি এটলাস লায়নস: উত্তর আফ্রিকার এটলাস পর্বতে একটি সময় সন্ধান মিলত সিংহের। যদিও সর্বশেষ ১৯২৫ সালে সেখানে সিংহের ছবি তুলেছিলেন ফরাসি সেনাসদস্য মার্সেলিন ফ্লানদ্রিন। কিন্তু আশরাফ হাকিমিরা এখনো জীবন্ত আর দলকেও গ্রুপসেরা বানিয়ে উঠে গেছেন শেষ ষোলোয়।
মালি, দি ঈগলস: মালিয়ানদের শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক ঈগল। কর্নেল আসিমি গোইটা ২০২১ সালে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে চলছে সামরিক শাসন। ফুটবলে তার প্রভাব কম। ফুটবলে মালিকে হারানো কঠিন। তারা উঠে গেছে শেষ ষোলোয়। গতকাল রাতে তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হয় ‘দি ঈগলস’খ্যাত দলটি।
কমোরোস, দ কোল্যান্থাস: দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশনস কাপে অংশগ্রহণ করা দ্বীপরাষ্ট্র কমোরোস ফুটবল দলের নাম দ্য কোয়েল্যান্থাস। কোয়েল্যান্থাস তিন লেজবিশিষ্ট সামুদ্রিক মাছ, যা ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় বিচরণ করত বলে জানা যায়। তবে দাবি করা হচ্ছে কমোরোসের আশপাশের সমুদ্রে এখনো এ মাছের দেখা মেলে।
জাম্বিয়া, চিপোলোপোলো (কপার বুলেট): জাম্বিয়ার সর্ববৃহৎ রফতানি পণ্য হলো কপার। এর সঙ্গে মিল রেখেই জাম্বিয়া ফুটবল দলের নাম রাখা হয়েছে কপার বুলেট, যার গতি বেশি আর বিপজ্জনক। যদিও দুটি ড্র করে এবারের আসর থেকে বিদায় নিয়েছে জাম্বিয়া।
মিসর, দ্য ফারাও: প্রাচীন মিসরীয় শাসকদের নামেই বর্তমান ফুটবল দলকে ডাকা হয়। রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিসর এবারো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহ।
দক্ষিণ আফ্রিকা, বাফানা বাফানা: জুলু ভাষায় বাফানা বাফানা মানে ‘দ্য বয়েজ, দ্য বয়েজ’। বর্ণবাদ বিলুপ্ত হওয়ার পর নেশনস কাপে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তর্ভুক্তির শুরু থেকেই ভালোবেসে তাদের এ নামে ডাকা শুরু হয়। ‘বি’ গ্রুপে রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা আজ শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলবে ক্যামেরুনের বিপক্ষে।
অ্যাঙ্গোলা, পালানকাস নেগ্রাস (ব্ল্যাক সাবল এন্টিলোপ): অ্যাঙ্গোলার জাতীয় প্রাণী হলো কালো রঙা সাবল এন্টিলোপ, এটা দেশটির ব্যাংক নোট ও স্ট্যাম্পেও দেখা যায়। দলটি এবারের নেশনস কাপে নকআউটে উঠতে পারেনি। তানজানিয়া বেশি গোল করার সুবিধা নিয়ে উঠে গেছে শেষ ষোলোয়।
জিম্বাবুয়ে, দ্য ওয়ারিয়র্স: লড়াকু মানসিকতা ও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলার সামর্থ্যের কারণে তাদের ওয়ারিয়র্স নামে ডাকা হয়। দলটি এবার প্রাণপণ লড়াই করলেও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ায় বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকে।
নাইজেরিয়া, দ্য সুপার ঈগল: ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দেশের জাতীয় পতাকার সবুজ ও সাদা রঙে করা জার্সিতে খেলে থাকে নাইজেরিয়া। প্রথমে ‘দি ইউকে ট্যুরিস্ট’, ‘দ্য রেড ডেভিল’ (লাল জার্সির কারণে) নামে ডাকা হতো নাইজেরিয়াকে। জার্সি বদলের পর নাম পায় ‘দ্য গ্রিন ঈগল’ এবং ১৯৮০-এর দশকে স্থায়ীভাবে ‘দ্য সুপার ঈগল’ নাম পেয়ে যায় তারা। ১৯৯৪ সাল ছিল নাইজেরিয়ার জন্য একটি স্বর্ণযুগ, যখন তারা আফ্রিকান কাপ জয় করে এবং প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে। এ সাফল্যের পর তাদের নতুন ডাকনাম হয় ‘সুপার ঈগলস’, যা তাদের শক্তি, গর্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। এবারের আসরে তিন জয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে তারা।
তিউনিসিয়া, দ্য কার্থেজ ঈগলস: কার্থেজ ছিল উত্তর আফ্রিকার একটি প্রাচীন নগরী, বর্তমান তিউনিসিয়ার তিউনিস হ্রদের পূর্ব তীরে অবস্থিত। কার্থেজ ছিল প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র এবং প্রাচীন বিশ্বের ধনীতম শহরগুলোর একটি। প্রাচীনকালে এ নগরী ছিল ক্ষমতার কেন্দ্রে, যা নিয়ন্ত্রণ করত উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব আইবেরিয়া ছাড়াও এ দুই অঞ্চলের মধ্যবর্তী দ্বীপাঞ্চল। ঐতিহাসিক ফিনিশিয়ান রিপাবলিক অব কার্থেজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই তিউনিসিয়া ফুটবল দলটিকে ডাকা হয় ‘কার্থেজ ঈগল’ নামে। তারা এবার গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে উঠেছে শেষ ষোলোয়, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মালি।
তানজানিয়া, তাইফা স্টারস: সোয়াহিলি ভাষা থেকে আসা তাইফা মানে জাতি, যা পূর্বতন টাঙ্গানিকা ও জাঞ্জিবার দ্বীপ থেকে তাদের সেরা খেলোয়াড়দের একত্র করেছে। ১৯৬৪ সালে গঠিত হয় তানজানিয়া। সেই থেকে তারা তাইফা স্টারস। এবারের আসরে তারা প্রথমবারের মতো নেশনস কাপের নকআউট পর্বে উঠেছে। আজ স্বাগতিক মরক্কোর মুখোমুখি তাইফা স্টারস।
দি এলিফ্যান্ট, আইভরি কোস্ট: হাতির দেশ আইভরি কোস্ট। একটি সময় দেশটিতে হাতির সংখ্যা ছিল অনেক। আইভরি কোস্টের নামটাই তো হয়েছে হাতির দাঁতের সঙ্গে মিল রেখে। আইভরি কোস্ট ফুটবল দলটাকে ডাকা হয় দ্য এলিফ্যান্ট নামে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা মঙ্গলবার শেষ ষোলোয় খেলবে বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে।
অদম্য সিংহ, ক্যামেরুন: অদম্য মানসিকতার কারণেই পাঁচবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুনের ডাকনাম ‘অদম্য সিংহ’। দুটি জয় ও একটি ড্র করে তারা গ্রুপে রানার্সআপ।
এছাড়া উগান্ডাকে দ্য ক্রেনস (উগান্ডার জাতীয় পাখি), সেনেগালকে দ্য তেরাঙ্গা লায়নস, কঙ্গোকে দ্য লিওপার্ড, বেনিনকে দ্য চিতা, বতসোয়ানাকে দ্য জেব্রা, আলজেরিয়াকে দ্য ফেনেক ফক্সেস, বারকিনা ফাসোকে দ্য স্ট্যালিয়নস, সুদানকে দ্য ফ্যালকন অব জেদিয়ানে, ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে ন্যাশনাল থান্ডার, মোজাম্বিককে দ্য মামবাস, গ্যাবনকে দ্য প্যানথার্স নামে ডাকেন তাদের সমর্থকরা।
তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিয়েছে গ্যাবন। বাজে ফলাফলের কারণে গোটা জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করেছে গ্যাবন সরকার।
এদিকে গতকাল রাতে সেনেগাল ও সুদানের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে গেছে আফ্রিকান নেশনস কাপের নকআউটের লড়াই। এ রাতে আরেক ম্যাচে তিউনিসিয়া খেলেছে মালির বিপক্ষে। আজ মাঠে নামছে স্বাগতিক মরক্কো। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় তানজানিয়ার মুখোমুখি হবে। আর রাত ১টায় দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে ‘অদম্য সিংহ’খ্যাত ক্যামেরুনের বিপক্ষে।
মোহাম্মদ সালাহর মিসর শেষ ষোলোয় সামনে পেয়েছে বেনিনকে। সোমবার রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ওই রাতে ১টায় ‘সুপার ঈগল’ নাইজেরিয়ার প্রতিপক্ষ মোজাম্বিক। মঙ্গলবার শেষ ষোলোর শেষদিনের লড়াই হবে আলজেরিয়া ও ডিআর কঙ্গো এবং আইভরি কোস্ট ও বারকিনা ফাসোর মধ্যে।










