টি-টোয়েন্টিতে ভয়ডরহীন বাংলাদেশ ওয়ানডেতে বিবর্ণ। টি-টোয়েন্টিতে টানা সিরিজ জিতে চললেও ওয়ানডেতে যেন উল্টোরথে। এ ফরম্যাটে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ দল গতকাল ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি। ৪৯.৪ ওভারে ২০৭ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। নিজেদের প্রিয় ফরম্যাটে টাইগারদের এ রকম বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ টপ অর্ডারের ব্যর্থতা। গত মঙ্গলবার আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৯৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। কালও ৮ রানের মধ্যে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারকে হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। সেই ক্ষত আর কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এরপর মিডল অর্ডারের চেষ্টায় কোনোমতে দুশ রান পেরোতে সমর্থ হয় দলটি। পরে বোলাররা বাংলাদেশকে জেতালেও ব্যাটিংয়ের দৈন্য দৃশ্যমান।

টপ অর্ডার ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। আবুধাবিতে তিন ম্যাচে করেছেন যথাক্রমে ২, ৭ ও ৩ রান। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একটু উন্নতি করলেও স্ট্রাইক রেট হতাশ করবে যে কাউকেই। বামহাতি এ ব্যাটার ৬৩ বলের মোকাবেলায় করেছেন ৩২ রান, স্ট্রাইক রেট ৫০.৭৯। এর আগে গত জুলাইয়ে শ্রীলংকার মাঠে তিন ম্যাচ সিরিজে তার ব্যাট থেকে আসে ২৩, ১৪ ও শূন্য রান। অর্থাৎ সর্বশেষ ৭টি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি করেছেন ৮১ রান। ২০২৫ সালে ৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফিফটি পেয়েছেন মাত্র একটি।

31

গত ফেব্রুয়ারিতে রাওয়ালপিন্ডিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১০ বলে ৭৭ রান করে দলকে এনে দিয়েছিলেন ২৩৬ রানের পুঁজি। যদিও ম্যাচে জিততে পারেনি বাংলাদেশ।

সেই থেকে শ্রীলংকা, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাতটি ওয়ানডে ম্যাচে ফিফটির দেখা পাননি বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক। এমনকি এ সময় তার ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৩২ রানের ইনিংস!

টি-টোয়েন্টিতে এরই মধ্যে বিবেচনার বাইরে চলে যাওয়া শান্তর ওয়ানডে ফর্মও তার নিজের ও দলের জন্য দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। রান না পেলে টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডেতেও শিগগিরই দলে জায়গা হারাতে পারেন ৫৬ ম্যাচ খেলা এ ব্যাটার।

বামহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম হঠাৎই ফ্লপ করেছেন। আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১০ ও শূন্য রান করলে বাদ পড়েন পরের ম্যাচে। তার জায়গায় তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ করে নেয়া মোহাম্মদ নাঈম শেখ আরো বিবর্ণ। তিনি ২৪ বলের মোকাবেলায় করেন মাত্র ৭ রান। সাইফ হাসানের ৪৩ ছাড়া আর কেউই সে ম্যাচে দুই অংক ছুঁতে পারেননি, আর দলও অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৯৩ রানে। এর মধ্য দিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

32

নাঈম শেখকে নিয়ে আরেকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবসান শেষে এবার স্কোয়াডে ডাকা হলো সৌম্য সরকারকে। সব সময়ের মতোই টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেই ডাক পড়ে তার, এবার তেমনই এক পরিস্থিতিতে দলে ঢোকা ৩২ বছর বয়সী ব্যাটারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনিও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন। ৬ বলের মোকাবেলায় ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ‘আপৎকালীন’ এ ব্যাটার। তবে তিনি যেভাবে আউট হয়েছেন তা ছিল দৃষ্টিকটু। জেইডেন সিলসের বলে কোনো ফুটওয়ার্ক ছাড়াই কভার পয়েন্টে খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে ক্যাচ দেন রোস্টন চেজকে।

গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৭৩ রানের ইনিংস খেলার সুবাদে এ বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ডাক পান সৌম্য। সেখানে এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও ব্যর্থ হন। দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ৪ বল মোকাবেলা করে শূন্য রানে ফেরেন সাজঘরে। এবার নিজের চেনা মাঠে করলেন ৬ বলে ৪ রান। টি-টোয়েন্টিতে আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা সাইফ হাসানও গতকাল হতাশ করে আউট হয়ে যান মাত্র ৩ রানে।

তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান কিংবা পারভেজ হোসেন ইমনদের আগমনে টপ অর্ডারে আশার আলো দেখা গেলেও তা যেন নিবুনিবু জ্বলে। দু-এক ম্যাচে ভালো খেলে আবার লম্বা বিরতি। ফলে বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তার অবসান ঘটছেই না।