ক্যামেরুনকে হারিয়ে ২২ বছর পর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক মরক্কো। শুক্রবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ‘অদম্য সিংহ’খ্যাত ক্যামেরুনকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় ‘দি এটলাস লায়ন’রা। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলাটা যে মরক্কোর জন্য কোনো ফ্লুক ছিল না, সেটি তারা আরেকবার প্রমাণ করল।

প্রিন্স মওলা আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে ম্যাচের উভয় অর্ধে একটি করে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ব্রাহিম দিয়াজ ও ডাচ ক্লাব আইন্দহোফেনের ইসমায়েল সাইবারি। ২৬ মিনিটে আইয়ুব এল কাবির পাস থেকে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন দিয়াজ। অত্যন্ত কাছ থেকে নেয়া শটে গোল করেন তিনি। চলতি আসরে টানা পাঁচ ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। ৭৪ মিনিটে গোল করেন সাইবারি। ফ্রি-কিকে নিচু শটে তিনি লক্ষ্যভেদ করেন (২-০)।

ঘরের মাঠে দর্শক সুবিধার পুরোটা কাজে লাগিয়েছে মরক্কো। মাঠে উত্তেজনা ছিল বটে, তবে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল খুব একটা পরীক্ষার মুখে পড়েনি। ক্যামেরুন তেমন কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি স্বাগতিক দলকে। অনেকটা নির্বিঘ্নে সেমিফাইনালে ওঠা মরক্কোর সামনে এখন দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের হাতছানি। ১৯৭৬ সালে তারা প্রথমবারের মতো নেশনস কাপ শিরোপা জিতেছিল। গত বিশ্বকাপে সেরা চারে জায়গা করে নেয়া দলটি এবার মহাদেশীয় শিরোপা জয়েরও দাবিদার।

এ নিয়ে টানা ২৫ ম্যাচে অপরাজিত মরক্কো। সর্বশেষ তারা হেরেছিল ২০২৩ নেশনস কাপের শেষ ষোলোয়। গতকাল রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়া। এ ম্যাচের বিজয়ীকে সেমিফাইনালে পাবে মরক্কো।

নেশনস কাপে এর আগে তিনবারের চেষ্টায় কখনই ক্যামেরুনকে হারাতে পারেনি মরক্কো। সর্বশেষ দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ৩৪ বছর আগে। এরপর ক্যামেরুন তিন-তিনবার নেশনস কাপ শিরোপা জয় করে। সব মিলিয়ে তারা জিতেছে পাঁচটি শিরোপা। অন্যদিকে মরক্কোর একমাত্র শিরোপাটি এসেছিল ৫০ বছর আগে। তবে এবারের মরক্কো আগের চেয়ে আলাদা। তারুণ্যনির্ভর দলটি কাতার বিশ্বকাপে বাঘা বাঘা দলকে পরাজিত করে। সেই সাফল্যের প্রেরণা তো আছেই, সঙ্গে স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়ে এবার ধীরে ধীরে শিরোপার দিকে এগোচ্ছে ‘এটলাস লায়ন’রা।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক কিংবা মহাদেশীয় আসর আয়োজনে প্রস্তুত হচ্ছে মরক্কো এবং তারা অবকাঠামো নির্মাণে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগ করেছে কোচিং স্টাফের পেছনেও। সব মিলিয়ে আফ্রিকায় বড়দের সঙ্গে তাদের শক্তির পার্থক্য কমে এসেছে এবং চলতি আসরে সত্যিকার অর্থেই কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে রেগরাগুইয়ের দল।

২০৩০ সালে স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে মিলে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো। ওই আসরের জন্য ব্যবহার করা হবে রাবাতের ৬৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষম প্রিন্স মওলা আবদেল্লাহ স্টেডিয়াম। শুক্রবার মাঠে ছিল ৬৪ হাজার দর্শক। বিশাল এ দর্শকের পুরো ফায়দা নিয়েছে মরক্কো। ক্যামেরুনের খেলোয়াড়রা যখনই বল স্পর্শ করেছে তখনই তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য গ্যালারিতে আওয়াজ তোলে মরক্কোর সমর্থকরা। ক্যামেরুনের অপেক্ষাকৃত তরুণ আর অনভিজ্ঞ দলটি এমন আবহে মানিয়ে নিতে পারছিল না। এছাড়া প্রথমার্ধে মরক্কোর মুহুর্মুহু চাপে বেসামাল হয়ে পড়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

আরো বড় ব্যবধানে জিততে পারত স্বাগতিকরা। শুরুর দিকে ক্যামেরুনের অধিনায়ক নুহু তোলো দারুণ এক ক্লিয়ারেন্সে গোল বাঁচান। দ্বিতীয়ার্ধে গোল লাইন থেকে বল সেভ করেন স্যামুয়েল কোট্টো। আবদেসসামাদ এজ্জালজুলি বারঘেঁষে মারেন, আর এল কাবি বল মেরেছেন সাইড নেটে।

দল জিতলেও পুরো খুশি নন মরক্কো কোচ রেগরাগুই। তিনি বলেন, ‘এটা কিন্তু আমাদের জন্য পারফেক্ট ম্যাচ ছিল না। কেননা দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ক্যামেরুনকে ঘুরে দাঁড়াতে ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করতে সুযোগ দিয়েছি। প্রথমার্ধে আমরা অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করেছি, আমরা ছিলাম মাঠের সর্বত্র। কিছু জায়গায় এখনো উন্নতির সুযোগ আছে। তবু দিন শেষে আমরা সেমিফাইনালে।’

শুক্রবার রাতে তানজিয়ার গ্র্যান্ড স্টেডিয়ামে মালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে নাম লেখায় ২০২১ আসরের চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। ইলম্যান এনদিয়ায়ে ম্যাচের ২৭ মিনিটে সেনেগালের জয়সূচক গোলটি করেন। মিসর ও আইভরি কোস্টের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের বিজয়ীকে সেমিফাইনালে পাবে সেনেগাল।