বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অষ্টম লড়ছে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই লড়াইয়ে জিততে দেশী-বিদেশী খেলোয়াড় মিলিয়ে শক্তিশালী দল গড়ার চেষ্টা করেছে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য রয়েছে অন্য এক লড়াইয়ে জয়ের চ্যালেঞ্জ। কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও মসৃণভাবে আসরটি সমাপ্ত করার চ্যালেঞ্জ।
মহামারী শুরুর পর এই প্রথম বিপিএল আয়োজন বিসিবির। কিন্তু এবারের যাত্রাটি বিসিবির জন্য বড়ই অগ্নিপরীক্ষার। এরই মধ্যে কভিডের প্রভাব লাগতে শুরু করেছে। বিসিবি জানায়, দলগুলো হোটেলে ওঠার আগেই প্রথম রাউন্ডের কভিড পরীক্ষায় বেশকিছু ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ পজিটিভ হয়েছেন। শুক্রবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগ পর্যন্ত কয়েক দফায় কভিড পরীক্ষা হয়েছে, যাতে বেশকিছু ক্রিকেটার পজিটিভ হয়েছেন।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানকে পায়নি ফরচুন বরিশাল। তিনি কভিড পজিটিভ ছিলেন। যদিও সর্বশেষ দুটি করোনা পরীক্ষায় তিনি নেগেটিভ হন। নুরুলের সর্বশেষ টেস্ট করা হয় গতকাল সকালে, যাতে তিনি নেগেটিভ হন। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ চৌধুরী জানান, কভিড নয়, হয়তো অন্য কোনো কারণে তিনি ম্যাচে ছিলেন না।
ফ্র্যাঞ্চাইজিটি জানায়, সোহান ছাড়াও বরিশালের আরো দুজন করোনায় পজিটিভ। তারা হলেন, ব্যাটার মুনিম শাহরিয়ার ও ব্যাটিং কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
বরিশাল প্রথম দল হিসেবে নিজেদের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর প্রকাশ করে। যদিও স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের খবর, খুলনা টাইগার্সের ছয় ক্রিকেটার করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এছাড়া গত চার-পাঁচদিনে বিসিবির কর্মীদের মধ্যে ১২ জন পজিটিভ হন বলে জানা যায়।
এবারের বিপিএল এমন এক কঠিন সময়ে মাঠে গড়াচ্ছে যখন কিনা বাংলাদেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ উচ্চহারে বাড়ছে। বিশেষ করে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ অনেক বেড়েছে। শুক্রবার আক্রান্ত শনাক্ত হয় ১১ হাজার ৪৩৪ জন, যা আগের দিনও ছিল ১০ হাজারের বেশি। শুক্রবার সংক্রমণের হার ছিল ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত ১ জানুয়ারির চেয়ে সংক্রমণ শনাক্ত ৩০ গুণেরও বেশি বেড়েছে!
উত্তাল কভিডের মধ্যে চলা এবারের বিপিএল আসরটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, গত টি২০ বিশ্বকাপে শোচনীয় ব্যর্থতা। দ্বিতীয়ত, এ বছর অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি টি২০ বিশ্বকাপ আসর। আগের আসরের ভরাডুবি কাটিয়ে উঠে পরবর্তী আসরের প্রস্তুতি নেয়ার মোক্ষম মঞ্চ হতে পারে এবারের বঙ্গবন্ধু বিপিএল।
বিসিবির জন্যও দুই বছরের মধ্যে প্রথম বিপিএল আসরটি সফলভাবে আয়োজন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিপিএলের হাত ধরেই ২০১২ সাল থেকে ২৩ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে বিসিবি এবং এর মধ্য দিয়ে এই ক্রিকেট আসরটি বিসিবির রাজস্ব আহরণের অন্যতম বৃহৎ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে হাজির। করোনার চোখরাঙানিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সফল হওয়ার চ্যালেঞ্জ বিসিবির সামনে।
কভিড-ঝড়ের মধ্যেও বিসিবি এখন পর্যন্ত সবকিছুতে ইতিবাচক ও প্রত্যয়ী। এবার জৈব সুরক্ষাবলয়ের ক্ষেত্রেও খানিকটা পরিবর্তন এনেছে বিসিবি। বিপিএলের অংশ প্রতিটি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের সদস্য ও কর্মকর্তারা তিন ভেন্যুতেই বাধাহীনভাবে টিম হোটেল, স্টেডিয়াম ও অনুশীলনের ফেসিলিটিজে যাতায়াত করতে পারছেন। এ নিয়ে ডা. দেবাশীষ বলেন, আমরা টোকিও অলিম্পিকের গাইডলাইন অনুসরণের চেষ্টা করছি। আগের সিরিজগুলোতেও আমরা দারুণভাবে স্বাস্থ্যগত প্রটোকল বাস্তবায়ন করেছি। কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের ওপর, যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়। আমরা যদি বুঝি যে মাঠে আমাদের কী করতে হবে, তাহলে আমার টুর্নামেন্টটি শেষ করতে পারব।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে মেনে চলে তার ওপরই নির্ভর করছে টুর্নামেন্টের ভাগ্য।
অবশ্য একটি বিষয় বিসিবিকে আশা দেখায়। এখন পর্যন্ত ৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও বিগ ব্যাশ টি২০ লিগকে ঠিকই এগিয়ে নিচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। করোনার উত্তাল তরঙ্গ ঠেলে বিগ ব্যাশকে এগিয়ে নিতে এখন পর্যন্ত একাধিক ভেন্যুও বদলানো হয়েছে, পরিবর্তন আনা হয়েছে সূচিতেও।










