ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর যেন ৪০ বছর বয়সেও থামার কোনো লক্ষণ নেই। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তিনি নাম্বার ওয়ান থাকার ধনুর্ভঙ্গ পণ করেছেন। সম্প্রতি পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জোড়া গোল করার মধ্য দিয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি। বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন তিনি। কাছাকাছি সময়ে পান আরেকটি সুখবর—আয়ের মুকুটও ধরে রেখেছেন সিআরসেভেন। সৌদি আরবের পেশাদার লিগের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে নতুন দুই বছরের চুক্তি করে তিনি উপার্জনের তালিকায় এবারো শীর্ষে রইলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান বিজনেস সাময়িকী ফোর্বসের হিসাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে রোনালদো মোট ২৮ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা) আয় করবেন। এর মধ্যে ২৩ কোটি ডলার আল নাসর থেকে ও বাকি ৫ কোটি ডলার নাইকি, বিনান্স ও হার্বালাইফসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে আসবে। এ নিয়ে গত এক দশকে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হলেন পর্তুগালের ইতিহাসে সবচেয়ে নামি এ খেলোয়াড়।

রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি রয়েছেন ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। ইন্টার মায়ামির হয়ে তার আয় প্রায় ১৩ কোটি ডলার। ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে নাম লেখানোয় মেসির আয় অনেক কমে গেছে, ফলে রোনালদোর সঙ্গে আয়ের রেসেও পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। এর পরও দ্বিতীয় স্থান ঠিকই ধরে রেখেছেন।

তৃতীয় স্থানে আছেন আল ইত্তিহাদের করিম বেনজেমা (১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার) যিনি একটি সময় খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের আরেক ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে (৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) এবং পঞ্চম ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ফরওয়ার্ড আরলিং হালান্ড (৮ কোটি ডলার)।

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ব্রাজিলের সান্তোসে ফেরার ফলে তার আয় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারে—যা তাকে ছিটকে ফেলেছে শীর্ষ দশের বাইরে।

এ তালিকায় ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছেন বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী লামিনে ইয়ামাল। তার আয় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

এছাড়া রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহাম আছেন নবম স্থানে (৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার)। তরুণদের এ উত্থানে ফুটবল দুনিয়ায় নতুন প্রজন্মের দাপট স্পষ্ট।

ফোর্বসের হিসাবে, বিশ্বের শীর্ষ দশ ফুটবলার ২০২৫-২৬ মৌসুমে মিলিতভাবে ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ১১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা) আয় করবেন। গত বছরের তুলনায় এটি প্রায় ৪ শতাংশ কমলেও ফুটবল এখনো বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক খেলা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।