পেলেকে বিদায় জানানোর শিরোনাম পুরনো হয়নি। এবার এল মিরোস্লাভ ব্লাজেভিচের প্রস্থানের খবর। ৮ ফেব্রুয়ারি ৮৭ বছর বয়সে ম্যারাডোনা ও পেলেকে অনুসরণ করলেন তিনি। পেছনে পড়ে থাকল অনন্য সব কীর্তি।
বাস্তবিক অর্থেই তিনি ক্রোয়াট ফুটবলের জনক। বিশ্বকাপের আসর যখন শুরু হয়, তখন ক্রোয়েশিয়ার জন্মই হয়নি। ১৯৯১ সালে ভেঙে পড়ে যুগোস্লাভিয়া। ক্রোয়েশিয়া স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। রাজনীতি ও কূটনীতিতে যেমনই থাক, ফুটবল মাঠে তখনো অপরিচিত। অথচ হঠাৎ জেগে ওঠা দ্বীপের মতো জানান দিয়ে ওঠে অস্তিত্ব। ফুটবলের বড় বড় পরাশক্তির সঙ্গে টক্কর দিতে থাকে ক্রোয়েশিয়া।
১৯৯৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ আসরে দেখাল আরো বড় চমক। প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অধিকার করে নিল দেশটি। ডেভর সুকার সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট জিতে নিলেও ক্রোয়াটদের চমকের পেছন থেকে জাদুর কাঠি ঘুরিয়েছেন কোচ ব্লাজেভিচ।
মিরোস্লাভ ব্লাজেভিচ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে। জন্মস্থান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ট্রাবনিকে। ১৯৫৪ সাল থেকেই ক্লাবের হয়ে সরব হন মাঠে। প্রথমে ট্রাবনিকের হয়ে ফুটবলে যাত্রা করলেও মূল দলে অভিষেক ডায়নামো জাগরেব ক্লাবে। ১৯৬৬ সাল থেকে মাঠ ছেড়ে দায়িত্ব কাঁধে নেন কোচিংয়ের। দীর্ঘ সময়ে ২৫টিরও বেশি ক্লাবের কোচ ছিলেন তিনি। তার কৃতিত্ব মূলত ছড়িয়েছে কোচ হিসেবে। ৭৫ বছর বয়সেও তিনি অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে চীন সফর করেছেন।
২০০২ সালে ক্রোয়েশিয়া থেকে ইরান জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে নেন। আর ২০০৮ সালে নেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দায়িত্ব। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার সাফল্য ছিল নজরকাড়া। কীর্তিতে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।
১৮ মাস আগে থেকে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিলেন ব্লাজেভিচ। অবশেষে হার মানলেন। জাগরেব হাসপাতালে তার মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন। টুইটারে লিখেছে, ‘আজ সব ফুটবল পরিবার কোচদের কোচকে হারিয়ে ফেলল’।










