ফাইনালে তিনটি লোনাসহ ৪৫-৩১ পয়েন্টে নেপালকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু
কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা চার আসরেই চ্যাম্পিয়ন হলো
লাল-সবুজরা। এবার তো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো স্বাগতিকরা। স্বাধীনতার পর থেকে এ যাবত
ক্রীড়ার কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে টানা চারবার শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ। চারটি
টুর্নামেন্ট মিলে টানা ২৪ ম্যাচে অপরাজিত বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ আজ কোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় প্রথম রেইড থেকেই।
মাত্র ৮ মিনিটে প্রথম লোনা আসে। প্রথমার্থে ২৪-১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকরা শেষ
পর্যন্ত ৪৫-৩১ পয়েন্টে জয়লাভ করে। ফাইনালে ঘনশ্যাম রোকা মাগারকে কড়া মার্কিংয়ে রাখায়
স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি। তারপরও সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচবার ম্যাচেসেরা হয়ে
পেয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। বাংলাদেশের মিজানুর রহমান হয়েছেন টুর্নামেন্ট
সেরা রেইডার, রোমান হোসেন হয়েছেন সেরা ক্যাচার।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় বাংলাদেশ অধিনায়ক আরদুজ্জামান মুন্সী
বলেছেন, ‘এবার আমাদের দলটা আগের তিন আসরের চেয়ে গোছালো, শুরু থেকে এক দল হয়ে খেলতে
পারায় প্রতিটি ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে পেরেছি। কোরিয়া, জাপান, কেনিয়ার মতো বড় থাকলেও
আমরা চাপমুক্ত থেকে খেলার চেষ্টা করেছি, সেভাবেই সফল হয়েছি।’
এদিকে, ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে মুকুট পরিয়ে আরদুজ্জামান
মুন্সীর আন্তর্জাতিক কাবাডিকে বিদায় জানানোকে স্মরণীয় করে দেয় বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।
এটাকে ‘নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি’ বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সোনালী ট্রফিতে অধিনায়কের
বিদায়টাকে আরো বেশি রাঙিয়ে দিয়েছেন সতীর্থরা। বিদায়ী ম্যাচে হলেন সেরা খেলোয়াড়ও।
বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডির আগের তিন আসরের মধ্যে
প্রথম দুইবার (২০২১ ও ২০২২) কেনিয়াকে (৩৮-২৮ ও ৩৪-৩১) এবং ২০২৩ সালে চাইনিজ তাইপেকে
৪২-২৮ পয়েন্টে হারিয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
আজ ফাইনাল শেষে কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি ও আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান
চৌধুরী নওফেল। উপস্থিত ছিলেন কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেট্রোপলিটন
পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, সংস্কৃতি নাহিদ ইজাহার খান প্রমুখ।










