সিলেট টেস্টে প্রথম দিন শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করা বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এরপর লংকান গতিতে বিধ্বস্ত স্বাগতিকরা শুক্রবার তিনটি ও আজ শনিবার বাকি সাত উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রানে অলআউট। ফলে ৯২ রানের লিড পায় শ্রীলংকা। যদিও দিনশেষে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়া হলো না তাদের। বাংলাদেশের বোলাররা ১১৩ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে অতিথিদের। দিনশেষে সিংহলিজদের সংগ্রহ ১১৯/৫। দুই ইনিংস মিলে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ২১১ রানের।

 

অভিষেক ইনিংসে তিন উইকেট নেয়া ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা আজও দলের আশা বাঁচিয়ে রাখার মতো বোলিং করলেন। তার জোড়া আঘাতে ৩২ রানের মধ্যে নিশান মাদুস্কা ও কুশল মেন্ডিসকে হারায় শ্রীলংকা। লংকানরা যখন একটু স্থিতি নিয়ে আসে তখন দুই স্পিনারের আঘাত। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে (২২) উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তাইজুল ইসলাম। একটু পরই নতুন ব্যাটসম্যান দিনেশ চান্দিমালকে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।

 

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে লড়াকু এক ফিফটি করেন দিমুথ করুনারত্নে। অবশেষে তিনি হার মানেন শরিফুল ইসলামের পেসের কাছে। ১০১ বলে ৫২ রান করে করুনারত্নে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন নাহিদ রানাকে।   

 

এর আগে ছিল লংকান বোলারদের কর্তৃত্ব। আগের দিনের ‘নাইটওয়াচম্যান’ তাইজুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। এরপর শেষ দিকে দুই পেসার খালেদ আহমেদ (২২) ও শরিফুল ইসলামের (১৫) ব্যাটে ভর দিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুশর কাছাকাছি পৌঁছে। লংকানদের হয়ে বিশ্ব ফার্নান্দো চারটি এবং কাসুন রাজিথা ও লাহিরু কুমারা তিনটি করে উইকেট নেন।  

 

সিলেট ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রথম দিন খালেদ আহমেদ ও নবাগত নাহিদ রানা সমান তিনটি করে উইকেট নিয়ে শ্রীলংকাকে ২৮০ রানে অলআউট করে দেন। নাহিদ রানা ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের ২০২ রানের অবিশ্বাস্য এক পার্টনারশিপ ভেঙেছেন, দুজনকেই আউট করেন তিনি। এরপর দ্রুতই অলআউট হয়ে যায় অতিথিরা। যদিও এরপর টাইগারদের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেয় সিংহলিজ পেসার বিশ্ব ফার্নান্দো ও কাসুন রাজিথা।

 

আজ সকালে পতন হওয়া তিনটি উইকেটই নেন ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ানো পেস বোলার লাহিরু কুমারা। তিনি আজ সকালে মাহমুদুল হাসান জয় (১২), শাহাদাত হোসেন (১৮) ও লিটন দাসকে (২৫) সাজঘরে ফেরান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও (১১) দলকে হতাশ করেন। এরপর ছিল শুধু বোলারদের লড়াই।