২০০৭  থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেমি সিডন্স। প্রায় এক যুগ পর আবারো বাংলাদেশে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ান এ কোচ। এবার অবশ্য জাতীয় দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নামার আগে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্রিকেট দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে আর গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলা হয়নি তার।

অবশেষে ক্রিকইনফোর সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলেছেন জেমি। সাকিব, তামিম ও মুশফিকদের সঙ্গে শুরুর দিকে কাজ করা এ কোচের এবারের প্রধান লক্ষ্য নতুন তরুণ ক্রিকেটারদের গড়ে তোলা।

এ তরুণদের মধ্যেই বাংলাদেশ দলে নতুন সাকিব ও তামিমকে দেখতে পাচ্ছেন সিডন্স। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমার অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে, কারণ দলটিতে আছে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাই তার কাজ কিছুটা কমে গেছে।

চলতি ও সামনের সিরিজ নিয়ে সিডন্স বলেন, আফগানিস্তানের আছে বিশ্বমানের তিনজন স্পিনার, যখন আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে খেলবো তখন তাদের থাকবে চারজন বিশ্বমানের পেস বোলার। তাদের ভালো স্পিনারও আছে। সেখানে রান করা সহজ হবে না। তাই নিজেদের তৈরির করার ব্যাপার কোনো ছাড় নেই। 

এ ব্যাটিং কোচ বলেন, যেখানেই আমাদের চ্যালেঞ্জ হবে, সেখানেই আমাদের উন্নতি করতে হবে এবং সব কন্ডিশনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই জায়গায় পৌঁছতে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে, কিন্তু আমরা সত্যিই একটি ভালো ক্রিকেট দল। আমাদের পারফর্ম চালিয়ে যেতে হবে। তরুণ খেলোয়াড়দের সেই অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা সব সময় দেশের বাইরে পারফর্ম করে।

ইনফর্ম লিটন দাসের দিকে ইঙ্গিত করে সিডন্স বলেছেন, লিটন টেস্টে কেমন ব্যাটিং করেছে, তা মানুষ দেখেছে।  তবে আমি কিছু ছোট বিষয় দেখতে পাচ্ছি যেগুলোয় তাকে সাহায্য করতে পারি। যে উন্নতিগুলো করলে লিটন যেকোনো কন্ডিশনে সব বোলারকে খেলতে পারবে, হোক সেটা ফাস্ট বোলার কিংবা ভালো স্পিনার। তবে এজন্য আরেকটু সময় লাগবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা কিছু সম্ভাব্য সুপারস্টার পেয়েছি। তাদের উপর বেশি চাপ না দিয়ে আমাদের তাদের সুযোগ দেয়া উচিত। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে, তারা নতুন সাকিব এবং তামিম হবেন।

সামনেই টি২০ বিশ্বকাপ। এজন্য টি২০র দিকে ফোকাস সিডন্সের। তিনি বলেন, আমরা যদি অক্টোবর এবং নভেম্বরের মধ্যে ভালো টি২০ দল হতে পারি, তাহলে আমরা ভারতে (২০২৩ সালে) দিনের শেষে আরো ভালো ওয়ানডে দল হতে পারি। আমরা জানি বিশ্বকাপে জিততে বা ভালো খেলতে আমাদের ভারতে বড় স্কোর করতে হবে। আমরা ২৬০-২৭০ নিয়ে পারব না। আমাদের ৩২০ লাগবে।