আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপে খেলার
যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার রাতে আবুধাবিতে বাছাইপর্বের সেমিফাইনালে
থাইল্যান্ডকে ১১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে নিগার সুলতানার দল।
মেয়েদের সামনে এবার বাছাইপর্বের শিরোপা জয়ের হাতছানি। আবুধাবিতে রোববার ফাইনালে
আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়।
বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাওয়া অবশ্য বাংলাদেশের জন্য
মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। ফেভারিট হিসেবে বাছাইপর্ব খেলতে নামা বাংলাদেশ যোগ্য দল
হিসেবেই উঠেছে মূল পর্বে। বরং সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবেই
পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল নিগারের দলকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কোনো অঘটন হয়নি।
রোববার আইরিশদের বিপক্ষে ফাইনালেও ফেভারিট হিসেবে নামবে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে গ্রুপ
পর্বের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছেন নিগার-সালমারা।
শুক্রবার জয় শেষে বাংলাদেশ দলনায়ক নিগার বলেন, বিশ্বকাপে
কোয়ালিফাই করায় আমরা আনন্দিত। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেয়েরা যেভাবে খেলেছে তাতে
অধিনায়ক হিসেবে আমি গর্বিত। আজকে যদিও একটু ক্লোজ ম্যাচ ছিল, কিন্তু আমার
বিশ্বাস ছিল সবার প্রতি। আমাদের সবার বিশ্বাস ছিল যে, আমরা এটি বের
করে নিয়ে আসতে পারব। মেয়েরা খুব ভালো বোলিং ও ফিল্ডিং করেছে। আমাদের নজর এখন
চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে। আশাকরি, আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরব।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখানে এসেছিলাম বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত
করতে এবং আমরা তা করেছি। এই দলে আমরা একত্রে বহু বছর ধরে খেলছি। একটি দল হিসেবে
আমরা কতটা উন্নতি করেছি আর আমরা কতটা ভালো দল, তা এখন বিশ্বকে দেখানোর সময় এসেছে।
আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞ আর অনেক মেধাবী খেলোয়াড় রয়েছেন, এখন নিজেদের
সামর্থ্যটা দেখানো প্রয়োজন।
২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করায় সেবার সরাসরি খেলার সুযোগ পায়
স্বাগতিক বাংলাদেশ। এরপর ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে (২০১৫ সালে
অনুষ্ঠিত)
রানার্সআপ হয়ে
এবং ২০১৮ ও ২০২০ আসরের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই বিশ্বকাপে খেলে বাংলাদেশ। কোনো
অঘটনের শিকার না হলে হয়তো এবারো চ্যাম্পিয়ন হয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা আসর খেলতে যাবে
বাংলাদেশ।
২০১৫ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের ফাইনালে আইরিশদের কাছে ২
উইকেটে হারের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ নারীরা। যদিও তার আগে সেমিফাইনালে
জিম্বাবুয়েকে ৩১ রানে হারিয়ে ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করে লাল-সবুজরা।
২০১৮ সালের ১৪ জুলাই নেদারল্যান্ডসের উট্রেখটের কমপোং ক্রিকেট ক্লাবে
বাছাইপর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে ২৫ রানে হারিয়ে আগেরবারের হারের প্রতিশোধ নেয়
বাংলাদেশ।
২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের ড্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত
বাছাইপর্বের ফাইনালে থাইল্যান্ডকে ৭০ রানে হারায় বাংলাদেশ। এবার সেমিফাইনালে থাই
মেয়েদের হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট চূড়ান্ত করেন নিগাররা।
আরেকবার বাছাইপর্বের ফাইনালে আইরিশদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে সালমাদের।
বিশ্বকাপের টিকিট তো মিল, এবার বাছাইপর্বের শিরোপাও জিততে চাইবেন নিগার ও
তার সহযোদ্ধারা।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবে ১০ দলের আসর। ওই আসরে খেলতে
তর সইছে না বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সদস্য রুমানা আহমেদের। আবুধাবিতে শুক্রবার জয় শেষে
তিনি বলেন,
খুব ভালোভাবে
আমরা বাছাইপর্বটা শেষ করলাম। ইনশাল্লাহ, আপনাদের সাথে দেখা হবে পরের বিশ্বকাপে, দক্ষিণ আফ্রিকা...।
তবে সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন, দলের ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম ও
অধিনায়ক নিগার কেউই আর বাছাইপর্বের এই ঝামেলা পোহাতে চান না। তারা চান, এরপর বাংলাদেশ
যেন সরাসরি মূল পর্বে খেলতে পারে।
একটা বৈরতনী তো পার হওয়া গেল।
এবার নিগারদের সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ। আগামী ১ অক্টোবর সিলেটে শুরু হচ্ছে এশিয়া
কাপ। এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত
টি২০ ফরম্যাটের প্রতিযোগিতায় ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার
গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেটা চমকপ্রদই ছিল। কেননা ওই আসরের আগে এশিয়া
কাপের ছয় আসরে ছয়বারই চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয় করা
সালমাদের জন্য বিরাট কৃতিত্বেরই ছিল বটে।










