অ্যালিসা হিলি যেন অ্যাডাম গিলক্রিস্টকেই মনে করিয়ে দিলেন। ২০০৭ সালে বারবাডোজের কেনসিংটন ওভালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১০৪ বলে ১৪৯ রানের মোহনীয় ইনিংস খেলে শ্রীলংকার স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছিলেন গিলক্রিস্ট। ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে ৫৩ রানের জয়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়। আজ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ‘অ্যালিসা হিলি শো’র কাছে উড়ে গেল ইংলিশ প্রতিরোধ। ১৩৮ বলে ১৭০ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার নারীদের এনে দিয়েছেন ৩৫৬ রানের সৌধ, যা টপকে যাওয়া সম্ভব হয়নি ইংলিশ নারীদের পক্ষে। ৭১ রানের এই জয়ে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সপ্তম মুকুট পেল অজি নারীরা।

 

হিলি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর তো গড়েছেনই, সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। নারী ও পুরুষ মিলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের এটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, আগের সর্বোচ্চ স্কোরটা ওই গিলক্রিস্টের ১৪৯। এছাড়া নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে হিলির ১৭০ রানই সর্বোচ্চ।

 

টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ইংলিশ অধিনায়ক হিদার নাইট। কিন্তু তিনি কি জানতেন, তাদের রীতিমতো দুঃস্বপ্ন উপহার দেবেন হিলি? ওপেনিং জুটিতে র্যাচেল হেইনেসকে নিয়ে ২৯.১ ওভারে ১৬০ রান তুলে ম্যাচটিকে একপশে করে তোলেন হিলি। হেইনেস ৯৩ বলে ৬৮ রান করে আউট হওয়ার পর আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠেন হিলি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বেথ মুনিকে (৪৭ বলে ৬২) নিয়ে তিনি বোর্ডে যোগ করেন ৯৮ বলে ১৫৬ রান! ৪৬তম ওভারে হিলি যখন আউট হন তখন দলের রান ৩১৬। এরপর অবলীলায় দলের সংগ্রহ সাড়ে তিনশ পেরিয়ে যায়।

 

হিলি ২৬ বাউন্ডারিতে সাজিয়েছেন স্বপ্নের এই ইনিংসটি।

 

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে ন্যাট শিভারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও (১২১ বলে ১৪৮) জেতাতে পারেনি ইংল্যান্ডকে। ৪৩.৪ ওভারে ২৮৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশ নারীরা।

 

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১২ আসরের মধ্যে সাতবারই শ্রেষ্ঠত্ব দেখাল অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া ইংল্যান্ড চারবার ও নিউজিল্যান্ড একবার শিরোপা জিতেছে।

 

৫০৯ রান করে এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান হিলির, ৪৯৭ রান নিয়ে তার পরেই বেথ মুনি। এ দুজনই এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন। ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ডের ডেবি হকলির ৪৫৬ রানের রেকর্ড ভেঙেছেন তারা দুজনই।