আফগানিস্তানকে আজ হারাতে পারলেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অর্জনের ভাণ্ডার আরেকটু ভারী হবে। আইসিসির টেস্টখেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাজিত করার কীর্তি আছে টাইগারদের।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ আফগানদের পরাস্ত করতে পারলেই এ তালিকা আরেকটু দীর্ঘ হবে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। টি-স্পোর্টস ও গাজী টিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
গত বৃহস্পতিবার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সফরকারীদের ৬১ রানের বড় ব্যবধানে হারায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বাহিনী। তাই ফুরফুরে মেজাজে টাইগাররা। ইনজুরি কাটিয়ে শেষ ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত মুশফিকুর রহিম। যদি তাকে দলভুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে ওপেনার নাঈম শেখের। সেক্ষেত্রে মুনিম শাহরিয়ারের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে শেখ মাহেদি হাসান কিংবা লিটন দাসকে।
দু’দলের এটি দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ২০১৮ সালের জুনে ভারতের দেরাদুনে প্রথম সিরিজে সাকিবের বাংলাদেশকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল আসগর আফগানের দল। এবার মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে সেই হারের প্রতিশোধও নেয়ার পালা।
তবে ওয়ানডের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান ভয়ঙ্কর দল। কারণ দলটিতে আছেন বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব-উর রহমান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজরা। বল হাতে তরুণদের মধ্যে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ফজলহক ফারুকি। ব্যাট হাতে ওডিআই ও টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন নাজিবউল্লাহ জাদরান।
টি-টোয়েন্টিতে এটি আফগানদের ১৮তম সিরিজ। আগের ১৭ সিরিজের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে তারা। একটি সিরিজ ড্র হয় ও তিনটিতে হার। অন্য দিকে বাংলাদেশ ৩০টি সিরিজ খেলে মাত্র নয়টিতে জিতেছে, ২১ সিরিজেই হার! এটি তাদের ৩১তম সিরিজ।
নিজেদের শেষ সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ-ই জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। ২০১৭ সালে শেষ তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারে। সর্বশেষ গত মার্চে তারা সিরিজ খেলে, জিম্বাবুয়েকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল দলটি।
বাংলাদেশ অবশ্য বিশ্বকাপ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে নাস্তনাবুদ হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল। এ ফরম্যাটে দু’দলের অতীত মুখোমুখিতে এগিয়ে আছে আফগানরা। সর্বমোট সাত ম্যাচের দেখায় চারটি জয়ে পাল্লা ভারী আফগানিস্তানের। অন্য দিকে বাংলাদেশের জয় তিনটিতে।
নাসুম, সাকিব, শরিফুল ও মুস্তাফিজরা বোলিংয়ে সেরাটা দিচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে থাকছে চিন্তা। সিনিয়র ক্রিকেটাররা পাচ্ছেন না রান। সিরিজ জিততে হলে সিনিয়রদের ব্যাটিংয়ে অবদান রাখাও জরুরি। গত ম্যাচে লিটনের ৪৪ বলে অনবদ্য ৬০ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। এ ম্যাচেও রাসেল ডোমিঙ্গোর অন্যতম অস্ত্র লিটন। যে কোনো পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। বোলিংয়ে নাসুম গত ম্যাচে ১০ রানে নেন চারটি উইকেট। ধারাবাহিক ফর্মে আছেন এই অর্থডক্সও।
র্যাংকিংয়ে আট নম্বরে আছে মোহাম্মদ নবির দল, নয় নম্বরে অবস্থান বাংলাদেশের। সিরিজটি জিতলে র্যাংকিংয়ে অষ্টমে উঠবে বাংলাদেশ। হারলে নেমে যাবে দশে।










