ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় আজ হয়েছে লাল-সবুজের উৎসব। সেই উৎসবের ঢেউ লাগে বর্ণিল গ্যালারিতে, আর তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী টাইগার সমর্থকদের হৃদয়ে-হৃদয়ে। তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তাওহীদ হৃদয় আর লিটন দাস বুক চিতিয়ে লড়ে আজ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। এই জয়ে নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভসূচনা হলো টাইগারদের। উজ্জ্বল হলো সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজে হেরে মাথা হেঁট হয়েছে সাকিব-শান্ত-হৃদয়দের। সেই পরাজয়ের প্রভাব বিশ্বকাপেও পড়ে কিনা, সেই ভয় ছিল। যদিও সব শঙ্কা এক হল্কায় উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে স্বস্তির জয় পেল বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তর বুকের ওপর থেকেও পাথরটা নেম গেল। জয় শেষে ম্যাচ প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে শান্ত বলেন, ‘আজ আমাদের প্রত্যেকের শারীরিক ভাষা অসাধারণ ছিল। আমরা নিজেদের ১২০ ভাগ দিয়েছি। গত ১০-১৫ দিন ধরে আমরা পরিকল্পনা করছিলাম। সব ফিল্ডার তাদের কাজটি দারুণভাবে করেছে। আমি মনে করি তারা (শ্রীলংকা) ভালো বোলিং করেছে, তবে এই উইকেটে আমাদের আরো সহজে জেতা উচিত ছিল।’

 

৩৮ বলে ৩৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে টেনেছেন লিটন কুমার দাস। রানখরার পর লিটনের ব্যাটে রান এসেছে বলে খুশি শান্ত। তিনি বলেন, ‘লিটনের জন্য এই রান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, সে কিছুদিন ধরে রানের জন্য ভুগছিল এবং আজ নিজের স্কিল দেখিয়েছে। আমি তো মনে করি, সে অনেক অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে।’

 

হাসারাঙ্গোকে তিন ছক্কায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া সাহসী তাওহীদ হৃদয়ের প্রশংসাও ঝরল শান্তর কথায়। তিনি বলেন, ‘হৃদয় সত্যিই অনেক সাহসী ছিল। সে যে ধাঁচে ব্যাট করেছে তা আমাদের জিততে সাহায্য করেছে।’   


 

‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ‘ রিশাদ হোসেন পুরস্কার গ্রহণ করে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘পিচ খুব ভালো ছিল। আমি নিজের সেরা চেষ্টা করেছি।’ চারিথ আসালঙ্কা ও হাসারাঙ্গা ডি সিলভাকে টানা দুই বলে আউট করার পর হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান রিশাদ। যদিও পারেননি তিনি। হ্যাটট্রিক বল নিয়ে ২১ বছর বয়সী এই লেগি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি স্বাভাবিক বলটি করার চেষ্টা করছিলাম। সর্বোচ্চ চেষ্টাই ছিল।’


 

লংকান দলনায়ক হাসারাঙ্গা ডি সিলভা পরাজয় শেষে বলেছেন, ‘প্রথম ৮-১০ ওভার আমাদের ব্যাটাররা কিন্তু ভালোই ব্যাট করেছে। এরপর মাঝের ওভারগুলোতে আমরা খারাপ ব্যাটিং করেছি। আমাদের বোলিং অ্যাটাকের শক্তি সম্পর্কে সবাই জানেন। বিশেষ করে ব্যাটাররা যদি ১৫০-১৬০ রান বোর্ডে এনে দিতে পারে, তবে আমাদের বোলিং অ্যাটাক ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। গত দুটি ম্যাচে ব্যাটাররা তাদের কাজটি করতে পারেনি। এটা কঠিন। প্রথম দুটি ম্যাচই আমরা হেরে গেলাম। আমরা কিন্তু আমাদের মূল বোলরাদের দিয়েই বোলিংটা করিয়েছি। আমি মনে করি, আমাদের চার মূল বোলার তাদের কাজটি ঠিকঠাক করেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, চারটি ওভার আমাদের অলরাউন্ডারকে দিয়ে করাতে হয়েছে।’