সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইলেনা রিবাকিনা এবারও উইম্বলডনে শিরোপার আশা জাগিয়েছিলেন। যদিও দ্যুতি শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেননি। তাকে সেমিফাইনালে থামিয়ে দিলেন চেক রিপাবলিকের বারবোরা ক্রেসিকোভ। বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম সেট জিতেও শেষ পর্যন্ত ৬-৩, ৩-৬, ৪-৬ গেমে হেরেছেন এই কাজাখ খেলোয়াড়। শনিবারের ফাইনালে ইতালির জেসমিন পাওলিনির মুখোমুখি হবেন ক্রেসিকোভা। দুর্দান্ত জমে ওঠা ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার ডোনা ভেকিচকে ২-৬, ৬-৪, ৭-৬ (১০/৮) গেমে হারিয়েছেন পাওলিনি।

 

রিবাকিনা অসুস্থতার কারণে উইম্বলডনের আগে ঘাসের কোর্টে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে না পারলেও দুর্দান্ত টেনিস খেলে ঠিকই উঠে যান সেমিফাইনালে। এ পথে মাত্র একটি সেট হারেন তিনি। সেমিতেও প্রথম সেটটি জিতে ফাইনালের পথে এক পা দিয়েই রাখেন। এরপর দুর্দান্ত কামব্যাকে তাকে হারিয়েছেন ক্রেসিকোভা।

 

অন্য সেমিফাইনালে রীতিমতো রেকর্ড গড়ে জিতলেন পাওলিনি। দুজনের জমজমাট সেমিফাইনাল ম্যাচটি শেষ হতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ৫১ মিনিট, যা উইম্বলডনের ইতিহাসে নারীদের দীর্ঘতম সেমিফাইনাল।

 

পাওলিনি এই জুলাই মাসের আগে উইম্বলডনে কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি। অথচ এই আসরে টানা জিতলেন ছয় ম্যাচ। এখন ক্যারিয়ারের শিরোপা থেকে এক জয় দূরে।

 

প্রথম সেটে হেরে যাওয়া পাওলিনি দ্বিতীয় সেটটি জিতে নিলেও তৃতীয় সেটে আবার পিছিয়ে পড়েন ৩-৪ গেমে। ভেকিচ জয় থেকে দুটি গেম দূরে। তখনই পাওলিনি লড়াই করে ফিরে আসেন। টাইব্রেকেও তিনি ১-৩-এ পিছিয়ে। সেখান থেকেও ফিরলেন দারুণভাবে এবং শেষ পর্যন্ত ১০-৮ পয়েন্টে সেটটি জিতে নিলেন।

 

২০২১ সালের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন অ্যাশলে বার্টি এই সেমিফাইনালের লড়াই নিয়ে বলেছেন, ‘দুজন অ্যাথলেট যখন তাদের সবকিছু নিংড়ে দিয়ে লড়াই করে তখন নেই লড়াই দেখতে পারাটাও অবিশ্বাস্য। খেলার এই চরম অনিশ্চয়তা আপনার জন্য যেমন কষ্টদায়ক, তেমনি উচ্ছ্বাসপূর্ণও হতে পারে। নেটের একদিকে যেমন বিষাদ, হারের কষ্ট, তেমনি উল্টো পাশে জেসমিন পাওলিনির উচ্ছ্বাস। ফাইনালের ওঠার আনন্দ। ক্রীড়া আসলেই নিষ্ঠুর, তাই নয় কি?’