‘বুকে হাত রেখে, বিজয়ের বেশে, ছুঁয়ে দেব আসমান’ স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) আয়োজনে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী ‘শেখ কামাল দ্বিতীয় বাংলাদেশ যুব গেমস ২০২৩’ এর চূড়ান্ত পর্বের পর্দা নামবে শনিবার। বিকাল ৪টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিওএ সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। 

আন্ত:উপজেলা ও আন্ত:জেলা পর্ব পেরিয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে ২৪টি ডিসিপ্লিনের ১৯৩টি ইভেন্টে ১৯৩টি স্বর্ণ, ১৯৩টি রৌপ্য ও ২৮৭টি তাম্রপদকের জন্য প্রায় চার হাজার ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেন।

 গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গেমসের চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সপ্তাহব্যপী চুড়ান্ত পর্বে উদীয়মান খেলোয়াড়দের পদচারণায় মুখরিত ছিল রাজধানী ঢাকার ক্রীড়াঙ্গন। বেশীর ভাগ ইভেন্ট শেষ হওয়ায় খেলোয়াড়রা ফিরেছেন ঘরে। শনিবার শেষ দিনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে এ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। যেখানে নির্ধারিত হবে দ্রুততম তরুণ ও তরুণী। সমাপনী দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত হবে এ ইভেন্ট।

করোনা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় গেমস আয়োজনে সবকিছুতেই কৃচ্ছতা সাধনে মনযোগী বিওএ। যে কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ন্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানও সীমিত পরিসরে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরই গেমসের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা। এরপর সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান শেষে গেমসের পর্দা নামবে।

এবারের গেমসও আন্ত:উপজেলা, জেলা ও বিভাগ বা জাতীয়-তিন স্তরে আয়োজন করা  হয়েছে। প্রথম স্তরে ৬৪টি জেলার সব উপজেলা থেকে অনুর্ধ্ব ১৭ বয়সী ক্রীড়াবিদরা অংশ নেয়। গত ২-১০ জানুয়ারি প্রথমপর্বে আন্ত:উপজেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৬-২২ জানুয়ারি দ্বিতীয়পর্বে আন্ত:জেলা প্রতিযোগিতায় জেলার ক্রীড়াবিদরা অংশ নেয়। এরপর চূড়ান্তপর্বে আটটি বিভাগীয় দল ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। 

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনায় ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো যুব গেমসের আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় দলের জন্য ভবিষ্যত খেলোয়াড় বাছাই এবং তরুণ ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেয়াই ছিল গেমসের মূল লক্ষ্য। প্রথম আসরে ২১টি ডিসিপ্লিনে ৫০ হাজার ক্রীড়াবিদ, কোচ, টেকনিক্যাল অফিসিয়াল ও ক্রীড়া সংগঠক অংশ নিয়েছিল।এবার ২য় আসরে একক ও দলীয়সহ ডিসিপ্লিনের সংখ্যা তিনটি বাড়িয়ে ২৪টি করা হয়। যেখানে প্রায় ৬০ হাজার ক্রীড়াবিদ, কোচ, টেকনিক্যাল অফিসিয়াল ও ক্রীড়া সংগঠক অংশ নিয়েছে।