ফুটবল মাঠের লড়াই যেমন উত্তেজনাপূর্ণ, তেমনি এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক আবেগ আর রোম্যান্স। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে অনেক কিংবদন্তিই চান সেই পুরনো ঠিকানায় ফিরে যেতে, যেখান থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্প্যানিশ গ্রেট সার্জিও রামোসের সেভিয়ায় ফেরা কিংবা উরুগুইয়ান কিংবদন্তি লুইস সুয়ারেজের ন্যাসিওনাল ক্লাবে প্রত্যাবর্তন—এমন নজির সাম্প্রতিক সময়ে বারবার দেখা গেছে। এবার সে তালিকায় যুক্ত হতে পারে আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসি কিংবা পর্তুগিজ মহানায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম। ভালোবাসা দিবসের প্রাক্কালে ফুটবল বিশ্বে এখন সবচেয়ে বড় গুঞ্জন—আবার কি তাদের শৈশবের ক্লাবের জার্সিতে দেখা যাবে?
নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার স্বপ্ন
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির শৈশবের ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছে। ক্লাবের সহসভাপতি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীকে তারা নিজেদের তাঁবুতে ভেড়াতে চান। মাত্র ছয় বছর বয়সে রোজারিওর এ ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন মেসি, সেখান থেকেই তাকে স্কাউট করেছিল বার্সেলোনা। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ মাতালেও ৩৮ বছর বয়সী মেসির মনে এখনো নিউয়েলসের জন্য আলাদা জায়গা আছে। ২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছিলেন, ‘নিউয়েলসে খেলা আমার আজীবনের স্বপ্ন।’
গুঞ্জন আছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের লোনে তিনি নিজের পুরনো ঠিকানায় ফিরতে পারেন। এটি হলে তা হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগি এক প্রত্যাবর্তন।
রোনালদোর সামনে স্পোর্টিং সিপির হাতছানি
অন্যদিকে ৪১ বছরে পা রাখা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সৌদি আরবের অধ্যায় নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। আল নাসরের হয়ে দুর্দান্ত খেললেও সম্প্রতি দলের দলবদল কার্যক্রম নিয়ে তিনি নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি। টানা দুই ম্যাচে বেঞ্চ গরম করতেও দেখা গেছে সিআরসেভেনকে। ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁতে মরিয়া রোনালদোর পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে পর্তুগালের স্পোর্টিং সিপি। প্রায় ২৫ বছর আগে এখান থেকেই তার সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। রোনালদোর মা ডলোরেস অ্যাভেইরো বারবার তার ছেলেকে স্পোর্টিংয়ে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি এক পডকাস্টে আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর আগে আমি ছেলেকে আবারো স্পোর্টিংয়ের জার্সিতে দেখতে চাই।’ সম্প্রতি রোনালদোর জন্মদিনে ক্লাবের উষ্ণ অভিবাদন সে সম্ভাবনাকে আরো উসকে দিয়েছে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ফ্ল্যামেঙ্গো
ফ্ল্যামেঙ্গো সম্প্রতি লুকাস পাকেতাকে ফিরিয়ে এনে প্রমাণ করেছে, তারা শৈশবের নায়কদের ফেরাতে আগ্রহী। পাকেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক রসিকতা করে বলেন, ‘এবার ভিনি জুনিয়র।’ হয়তো রসিকতা, কিন্তু পুরোপুরি অবাস্তব নয়। ছয় বছর বয়সে ফ্ল্যামেঙ্গোতে যোগ দেয়া ভিনিসিয়ুসের রিয়াল মাদ্রিদে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই গুঞ্জন আরো জোরালো হচ্ছে।
গ্রিজমানের লিও নিয়ে আশা
আতোয়াঁ গ্রিজমান শৈশবে লিওঁর ট্রায়াল দিয়েও সুযোগ পাননি। পরে স্পেনে চলে আসেন। সোসিয়েদাদ, বার্সেলোনা, আতলেটিকো—সব জায়গায় সাফল্য পান। তবু লিঁও তার হৃদয়ের ক্লাব। গ্রিজমান নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ দেখতে লিওঁর স্টেডিয়ামে যেতেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে লিওঁর জার্সি গায়ে চাপানোটা তাই হতে পারে এক আবেগপূর্ণ প্রত্যাবর্তন।
কাসেমিরো ও সাও পাওলো
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর কাসেমিরোর গন্তব্য নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তিনি প্রকাশ্যে সাও পাওলোতে ফেরার ইচ্ছা জানাননি, কিন্তু যে ক্লাব তাকে ১০ বছর বয়সে তুলে নিয়ে বড় করেছে, সেখানে পুনর্মিলন অস্বাভাবিক নয়। তার বিখ্যাত ‘কাসেমিরো’ নামটিও সাও পাওলোর ভুল বানান থেকে সৃষ্টি, যা আজও তিনি সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেই রেখেছেন।
রোমেলু লুকাকুর আঁদারলেখত-স্বপ্ন
লুকাকুর পেশাদার ক্যারিয়ারের সূচনা আঁদারলেখতে। এখন নাপোলির হয়ে খেলছেন, তবে তিনি বহুবার বলেছেন, অবসর নেয়ার আগে আঁদারলেখতের বেগুনি জার্সি পরে আবার মাঠে নামতে চান। বেলজিয়ান গণমাধ্যমের খবর, ২০২৬ বিশ্বকাপের পরই হয়তো তার সে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।










