চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ বুধবার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে কুশল মেন্ডিস ও জেনিত লিয়ানাগের ফিফটিতে ভর করে তিনশর দিকেই এগোচ্ছিল শ্রীলংকা। যদিও শেষ দিকে দারুণ বোলিংয়ে অতিথি দলটিকে ২৫৫ রানে অলআউট করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ জিততে টাইগারদের করতে হবে ২৫৬ রান। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। দিলশান মদুশঙ্কার করা ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন লিটন দাস।

 

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা শ্রীলংকাকে ঝড়ো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও আভিস্কা ফার্নোন্দো। ১০ ওভারের প্রথম পাওয়ার প্লের পুরো সদ্ব্যবহার করে তারা ৭১ রান তুলে নেন। অবশেষে দশম ওভারে ফার্নান্দোকে আউট করে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পেস বোলার তানজিম হাসান সাকিব।

 

এখানেই শেষ নয়। টানা তিন ওভারে তিন উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তানজিম। ফার্নান্দোকে আউট করার পর ১২তম ওভারে পাথুম নিশাঙ্কা ও ১৪তম ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমাকে সাজঘরে ফেরান তিনি। যদিও এরপর সতর্ক হয়ে খেলতে শুরু করে লংকানরা। কুশল মেন্ডিস ও চারিথ আসালঙ্কা ৭৩ বলে ৪৪ রান যোগ করেন। আসালঙ্কাকে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর তরুণ লিয়ানাগেকে নিয়ে ৬৮ বলে ৬৯ রানের আরেকটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ উপহার দেন কুশল।

 

ভয়ংকর হয়ে ওঠা কুশলকে ইনিংসের ৩৭তম ওভারে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। মিডঅফে তিনি ক্যাচ তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। এরপর লিয়ানাগে বাংলাদেশ দলের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে থাকলেও শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ২৫৫ রানে অলআউট করে দেন তাসকিন ও শরিফুল। উভয়ই নেন তিনটি করে উইকেট। মিরাজ মিতব্যয়ী বোলিং করে বড় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১০ ওভারে ৩৩ রান খরচ করে ১ উইকেট নেন।

 

উপমহাদেশের দুই ক্রিকেট জাতির ওয়ানডে দ্বৈরথে লংকানরা অনেক অনেক এগিয়ে। ৫৪ ম্যাচ খেলে তারা এখন পর্যন্ত ৪২টি জিতেছে, আর বাংলাদেশের জয় মাত্র ১০টি। এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আসর বাদে দুই দেশ এখন পর্যন্ত ৯টি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীলংকা ৬টি ও বাংলাদেশ মাত্র ১টি সিরিজ জিততে সমর্থ হয়েছে, আর টাইগাররা জিতেছে দুই দলের সর্বশেষ সিরিজটা। ২০২১ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ জয়লাভ করে স্বাগতিকরা।

 

এর আগে সিলেটে তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজে ২-১-এ জিতেছে শ্রীলংকা।