আজ সকালে পাঠক যখন প্রতিবেদনটি পড়বেন ততক্ষণে অনেকদূর গড়িয়ে যাওয়ার কথা নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরুর কথা এই টেস্টের খেলা। বাংলাদেশের জন্য সিরিজ জিততে আর কিউইদের জন্য সিরিজ বাঁচাতে এ টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রাইস্টচার্চের এ টেস্টে আবার টস হয়ে উঠেছে মহাগুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি এমন, পেসবান্ধব হ্যাগলি ওভালে টস জিতলে চোখ বন্ধ করেই বোলিংটা বেছে নিতে তৈরি দুই দলের অধিনায়ক!

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। বে ওভালের উইকেটে সেভাবে ঘাস ছিল না। তাই বাউন্সের দেখাও সেভাবে মেলেনি বলে নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা ছিলেন অনেকটাই নখদন্তহীন। দ্বিতীয় টেস্টের ভেনু হ্যাগলি ওভালের উইকেটে অবশ্য বেশ ঘাস থাকতে পারে। কিউই ব্যাটার রস টেলর, অধিনায়ক টম ল্যাথাম থেকে শুরু করে অনেকেই সবুজের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন। বিদায়ী টেস্ট খেলতে যাওয়া টেলর বললেন, হ্যাগলি ওভালের সবুজ ঘাস দেখলে পেস বোলারদের জিভে জল এসে যাবে!

এই সবুজে অবশ্য মোটেও ভীত নয় বাংলাদেশ। টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন, সবুজ উইকেটে বাংলাদেশ ভীত নয়, বরং পেসাররা সেখানে বোলিং করতে মুখিয়ে আছেন। তার কথায়, নিউজিল্যান্ড মানসম্পন্ন দল, তারা এই পরাজয়ে আহত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে একটু নার্ভাস থাকবে। তাদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে। জয় নিয়ে সিরিজ ড্র করতে চাইবে। অবশ্য ঘরের মাঠ বলে একটু চাপেও থাকবে। আমাদের পেসাররা অবশ্য অনেক উজ্জীবিত। তারা জানে, ঘরের মাঠে খুব একটা সুবিধা পাবে না এবং সেখানে স্পিনাররাই ৯০ শতাংশ বল করে। এই কন্ডিশনে খেলার জন্য তাই তারা উন্মুখ হয়ে আছে। আশা করি ছেলেরা ভালো করবে।

ক্রাইস্টচার্চে টসকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডমিঙ্গো। এ নিয়ে গতকাল ভার্চুয়াল মিডিয়া কনফারেন্সে তিনি বলেন, টস অনেক গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পরিসংখ্যান বলে, গত ৮ ম্যাচে ২ বার জিতেছে আগে ব্যাটিং করা দল, তবে টসে জিতে এখন পর্যন্ত কেউ ব্যাটিং নেয়নি। এখানে প্রথম ইনিংসে ২৬০-২৭০ রান হয়। নতুন বল ব্যবহারের জন্য প্রথম দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড টস জিতলে বোলিং করতে চাইবে, আমরাও চাইব।

প্রথম টেস্ট জিতে সফরকারী বাংলাদেশ উজ্জীবিত মেজাজে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামছে। প্রথম টেস্টে এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত বোলিং জিতিয়েছে বাংলাদেশকে। হ্যাগলি ওভালেও তার জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না তিনদিন ধরে এবাদতের হাসি থেমেছে। সে দারুণ একটা ছেলে। সে যা অর্জন করেছে, তার জন্য আমি খুবই খুশি। আশা করি, হ্যাগলি ওভালেও সে জ্বলে উঠবে।

তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন আর শরিফুল ইসলামদের নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, আমি এখনো পিচ দেখিনি। ডানেডিন, ওয়েলিংটন ও হ্যামিল্টনে এর আগে গেলেও ক্রাইস্টচার্চে কোনো টেস্টের জন্য আমার আসাও হয়নি আগে। এই উইকেটে পেসাররা অনেক বেশি সুবিধা পায়। এটাও আমাদের সুবিধা দেবে। আমাদের কয়েকজন মানসম্পন্ন পেসার আছে। খুব কম সময়ই বাংলাদেশ ঘাসের উইকেটে সুবিধা নেয়ার কথা ভাবতে পারে। আমাদের তিন পেসার অনেক উঁচু মানের, তারা আত্মবিশ্বাসী। শুরুতে বোলিং করে কিছু উইকেট নিতে পারলে আশা করি, তাদের ঘায়েল করতে পারব।

এদিকে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে বেশ সমীহ করছেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক ল্যাথাম। গতকাল মিডিয়া কনফারেন্সে তিনি বলেন, আমরা জানি তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে এখানে (ক্রাইস্টচার্চ) খেলতে আসছে। বাংলাদেশ পারফেক্ট টেস্ট খেলছে। বোলিংয়ের দিক দিয়ে তারা দুই পাশ দিয়েই দারুণ বল করে ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা আমাদের জুটি গড়তে দেয়নি। এটা আমাদের বোলারদের জন্য শিক্ষণীয় একটা ব্যাপার। তবে এখানকার উইকেট মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আমাদের পেসাররা যদি সঠিক জায়গা এবং লাইন ঠিক রেখে বল করতে পারে তাহলে আমি মনে করি আমাদের ভালো একটা সুযোগ থাকবে ম্যাচে।

কিউই দলনায়ক আরো বলেন, আমরা শেষ কয়েক বছর ধরে এখানে দারুণ ক্রিকেট খেলে আসছি। আর আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চাই। সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।