গামী গ্রীষ্মের দলবদলে স্কোয়াড ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেই ইউরোপের অন্যতম সেরা ও ধনী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের। স্প্যানিশ জায়ান্টদের একমাত্র বড় টার্গেট প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) থেকে ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সই করিয়ে আক্রমণভাগটা আরেকটু শক্তিশালী করা।
এছাড়া রিয়ালের রাডারে রয়েছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার ব্রাউট আর্লিং হাল্যান্ড। তবে এ দুই খেলোয়াড়কেই যদি দলভুক্ত করতে ব্যর্থ হয় লস ব্লাঙ্কোসরা, তাহলে দলটি অন্য কোনো উইঙ্গার কিংবা মিডফিল্ডার কেনায় মনোযোগী হবে। বলাবাহুল্য, নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে দু-একজনকে বিক্রিও করতে হবে তাদের।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পার্ক দেস প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে স্বাগতিক পিএসজির মাঠে ০-১ গোলে হেরেছে রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা। পিএসজির হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন রিয়ালের এক নম্বর টার্গেট হয়ে ওঠা এমবাপ্পে। এ হারের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছেন কোচ ও খেলোয়াড়রা। সঙ্গে সঙ্গে স্কোয়াডের শক্তি বৃদ্ধির গুঞ্জনও উঠেছে। এমবাপ্পেকে আনার দাবি আরো জোরালো হচ্ছে।
আবার বার্সেলোনার মতো আর্থিক জটিলতায় পড়তে চায় না কিংবা কোনো খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে চায় না রিয়াল মাদ্রিদ। কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং সবকিছু মসৃণভাবে এগিয়ে নেয়া তাদের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আসন্ন গ্রীষ্মকালীন দলবদলেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে বলে শিগগিরই ছেড়ে দেয়া হতে পারে ওয়েলস উইঙ্গার গ্যারেথ বেল, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলো ও স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইসকোকে। এছাড়া বিদায় নিতে পারেন জেসুস ভায়েজো, মারিয়ানো ডিয়াজ ও দানি সেবায়োস।
গুঞ্জন রয়েছে, বেলজিয়ান ফরয়ার্ড এডেন হ্যাজার্ডকে ছেড়ে দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করতে পারে লস ব্লাঙ্কোসরা। আবার স্প্যানিশ ফরয়ার্ড মার্কো অ্যাসেনসিওর ভবিষ্যত্ও এ গ্রীষ্মে নির্ধারিত হতে পারে। গ্রীষ্মেই ধার চুক্তির মেয়াদ শেষ করে ইতালির ক্লাব ফিওরেন্টিনা থেকে ফিরে আসবেন আলভারো ওদ্রিওজোলা। রিয়াল মাদ্রিদ কাস্তিয়া থেকে সিনিয়র দলে তুলে আনা হতে পারে রাফা মারিনকে। আবার ধার চুক্তিতে রায়ো ভায়েকানোতে সফল মৌসুম পার করে ফিরে আসছেন ফ্রান গার্সিয়া।
রিয়াল মাদ্রিদ স্কোয়াডে মধ্য মাঠের ব্রিগেড হিসেবে থাকছেন জার্মানির টনি ক্রুস, ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো, উরুগুয়ের ফেদে ভালভার্দে, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ ও ফ্রান্সের এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। সব মিলিয়ে কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি জানেন, তার ভূমিকাটা আসলে কী হবে।
অ্যানচেলত্তি প্রকাশ করেছেন, পিএসজির মাঠে হারের পর তিনি কথা বলেছেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, জেনারেল ডিরেক্টর হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজের সঙ্গে। অ্যানচেলত্তির বিশ্বাস, রিয়ালের এখনো সুযোগ আছে। ইতালিয়ান এই কোচের কথায়, আমরা কখনই বলিনি যে আমরাই এটা জিততে চলেছি। কিন্তু আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে পিএসজির বিপক্ষে আমরা আরো ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি বলে মনে করি, তাতে কোনো সংশয়ই নেই।
ওই রাতে এমবাপ্পেই সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেন রিয়ালের। যদিও ফ্রেঞ্চ তারকা লস ব্লাঙ্কোস তাঁবুতে আসছেন কিনা, সরাসরি এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেন তিনি। রিয়াল কোচ বলেন, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোয়াড, যদিও ভবিষ্যতের জন্য আমরা কিছু ভাবছি। প্রতি বছরই আমার স্কোয়াড আরো ভালো করার চেষ্টা করে। সে (এমবাপ্পে) আমাদের ক্ষতি করেছে, এখন তার মোকাবেলা করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় হাতে পাচ্ছি আমরা।
এদিকে, রিয়ালের হাত থেকে এমবাপ্পেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করবে পিএসজি। মার্কা বলছে, তরুণ এ স্ট্রাইকারকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ফরাসি ক্লাবটি।
পিএসজির সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর চার মাস বাকি এমবাপ্পের। গত জুনের পর থেকেই তিনি ‘ফ্রি
এজেন্ট’ এবং চাইলে যেকোনো ক্লাবে নাম লেখাতে পারবেন। বল এখন আর পিএসজির কোর্টে নেই। যদিও খেলোয়াড়টিকে ঈর্ষণীয় পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়ে তার মন ভোলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ক্লাবটি। তাকে সপ্তাহে ১০ লাখ ইউরো দিতে চায় কাতারি মালিকানাধীন ক্লাবটি, যা হতে পারে ফুটবলারদের মধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের রেকর্ড।
এটি এমনই এক অংক যা এ মুহূর্তে কোনো ক্লাবই দিতে চাইবে না, এমনকি বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব রিয়ালও, যারা এমবাপ্পেকে কিনতে চায়।
পিএসজির ক্রীড়া পরিচালক লিওনার্দো জানিয়েছেন, গত বছরই আকর্ষণীয় এক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন এমবাপ্পে। তাতে নিরাশ হননি তিনি, খেলোয়াড়টিকে রাজি করাতে সর্বশেষ অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছে লিওনার্দো।
এমবাপ্পে যদিও ভবিষ্যত্ নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি এবং তিনি পিএসজির হয়ে চলতি মৌসুমেই মনোযোগ দিচ্ছেন। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তার একমাত্র গোলে ভর করেই রিয়ালকে হারায় পিএসজি। রিয়াল তাকে গ্রীষ্মেই পেতে আশাবাদী, যদিও সহজে তাকে যেতে দিচ্ছে না পিএসজি। কাজেই, ফরাসি সুপারস্টারকে নিয়ে গ্রীষ্মে নাটকীয় কিছুই ঘটতে যাচ্ছে। মার্কা










