জমকালো আয়োজনের সঙ্গে বিজেতাদের হাতে তুলে দেয়া হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বসেছিল ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১’-এর আসর। বিকাল ৪টায় শুরু হয় মূল আয়োজন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাসানুল হক ইনু, এমপি এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, এমপি।
আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাসানুল হক ইনু, এমপি। তিনি তার বক্তব্যে বৈশ্বিক সিনেমার সঙ্গে বাংলাদেশের সিনেমা নিয়েও কথা বলেন। তার বক্তব্যের পর আজীবন সম্মাননা পুরস্কার দেয়ার মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। প্রথমেই ডলি জহুরের হাতে আজীবন সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ইলিয়াস কাঞ্চন বিদেশে অবস্থান করায় তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার আত্মীয়। এরপর একে একে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেরা অভিনেতার পুরস্কার গ্রহণ করেন সিয়াম আহমেদ ও মীর সাব্বির, সেরা অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তাসনোভা তামান্না, পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু ও সেরা পার্শ্বঅভিনেত্রী শম্পা রেজা। এছাড়া সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কৃত হয়েছে নোনা জলের কাব্য ও লাল মোরগের ঝুঁটি। সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। চিত্রনাট্যের জন্য সেরার পুরস্কার পেয়েছেন নূরুল আলম আতিক।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নির্মিত সিনেমার মধ্যে ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই-কে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। ২০২১ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় মোট ২৭ ক্যাটাগরিতে ৩৪টি পুরস্কার দেয়া হয় শিল্পীদের। ‘ শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক’ ক্যাটাগরিতে কোনো প্রার্থী যোগ্য বিবেচিত না হওয়ায় এ বছর ২৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হয়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের জন্য গত ১৬ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড গঠন করে। এরপর জাতীয় পুরস্কারসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চূড়ান্ত তালিকার অনুমোদন দিয়েছে।
সেরা সংলাপ রচয়িতার পুরস্কার বিজয়ী তৌকীর আহমেদের অনুপস্থিতিতে তার ছোট বোন ও সেরা গীতিকার মরহুম গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পক্ষে তার স্ত্রী জোহরা গাজী পুরস্কার গ্রহণ করেন। পুরস্কার প্রদান শেষে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত ডলি জহুর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেন।
ডলি জহুরের পর বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, এমপি। তিনি বলেন, করোনা মহামারীর পর সিনেমা খুব কম মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু সাহস করে সিনেমা নির্মাণ ও মুক্তি দেয়ায় তাদের সম্মাননা দিতে ২০২১ সালের সিনেমার ওপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। তিনি বাংলা সিনেমার সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিবারের মতো এবারো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। এবার অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন দেশের জনপ্রিয় দুই তারকা ফেরদৌস আহমেদ ও নুসরাত ফারিয়া। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও দেশ বন্দনা নিয়ে ছিল ওয়ার্দা রিহাব ও তার দলের পরিবেশনা। আরো পারফর্ম করেছেন অপু বিশ্বাস, নিপুণ, তারিন, বাপ্পি চৌধুরী, জায়েদ খান, ইমন, নিরব, দীঘি, আঁচল, পূজা চেরি, ঐশী, তমা মির্জাসহ ২৬ জন শিল্পী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
ধনধান্য পুষ্পে ভরা, শুধু গান গেয়ে পরিচয়, হই হই রঙ্গিলা, পিচ ঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি, বেদের মেয়ে জোছনা, কী যাদু করিলাসহ একাধিক গানের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন শিল্পীরা। এছাড়া গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন পার্থ বড়ুয়া, আঁখি আলমগীর, ইমরান, কোনাল, লিজা সাব্বির, নন্দিতা ও নিশিতা বড়ুয়া।










