খরচ কমানোর চেষ্টা করছে ডিজনি। সে উদ্দেশ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করা হচ্ছে। ছাঁটাই হতে পারে কিছু কর্মী। এছাড়া কোম্পানির কাজে ভ্রমণের পরিমাণ কমানোরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শুক্রবারে এক বিবৃতির মাধ্যমে ডিজনির প্রধান বব চাপেক এ কথা জানিয়েছেন। এর চারদিন আগে ডিজনি তাদের চার মাসের আয়ের হিসাব প্রকাশ করেছিল। সে হিসাব থেকে দেখা যায় কোম্পানির স্টকের মূল্য গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
চাপেকের এ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভ্যারাইটি। সে সূত্র অনুসারে তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি, এ সিদ্ধান্ত আপনাদের অনেকেরই ব্যক্তিগত ও দলগত কাজের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করবে। আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে রূঢ় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি। নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তবে এ সময় আমাদের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ১০০ বছরের ইতিহাসে আমাদের প্রতিষ্ঠান বহু চ্যালেঞ্জ পার করেছে। আমি বিশ্বাস করি সামনেও সব ধরনের প্রতিকূলতা পার করে আগামী দিনের উপযুক্ত আরো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারব।’
কোম্পানির তরফ থেকে খরচ কমানোর পাশাপাশি এর কনটেন্টের উন্নত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রচার ও বিপণনের ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এজন্য ‘কস্ট স্ট্রাকচার টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে আছেন খোদ চাপেক এবং কোম্পানির সিএফও ক্রিস্টিনা ম্যাককার্থি।
এর আগে গত অক্টোবরে কোম্পানিটি অপারেটিং লস সম্পর্কে উল্লেখ করেছিল। স্ট্রিমিং সেগমেন্টের ক্ষেত্রে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এর আগের বছরের তুলনায় লোকসানের পরিমাণ ৮০ কোটি ডলার বেশি। এ অবস্থায় খরচ কমানো বা ব্যবস্থাপনার কথাই ভাবছে ডিজনি। ‘অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা’র কথা মাথায় রেখে ২০২৪ সালে মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে চ্যাপেক জানিয়েছেন। মজার ব্যাপার এ অবস্থার মধ্যেও বেড়েছে ডিজনি প্লাসের গ্রাহক।
ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির দেয়া জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারের হিসাব অনুসারে ডিজনি প্লাসের গ্রাহক বেড়েছে ১ কোটি ২১ লাখ। সে হিসেবে আগের কোয়ার্টারে থাকা মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ২১ লাখ থেকে বেড়ে এ কোয়ার্টার শেষে মোট হলো ১৬ কোটি ৪২ লাখ। নতুন গ্রাহকদের মধ্যে ২০ লাখ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অধিবাসী। এর ফলে ডিজনির ‘ডিরেক্ট টু কনজুমার’ সার্ভিসের ক্ষেত্রে ডিজনি প্লাস, ডিজনি প্লাস হটস্টার, হুলু ও ইএসপিএন প্লাস মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২২ কোটি ১১ লাখ থেকে বেড়ে ২৩ কোটি ৫০ লাখে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, নেটফ্লিক্সের মোট গ্রাহক সংখ্যা ২২ কোটি ৩১ লাখ, অর্থাৎ ডিজনির মোট গ্রাহক নেটফ্লিক্সের তুলনায় বেশি। কিন্তু এ অবস্থায়ও কোম্পানিটি লোকসানের মুখে আর তা কমানোর জন্যই তাদের এত তোড়জোড়।
সূত্র: ভ্যারাইটি










