পোল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল রিমেমব্রেন্স (আইপিএন) সম্প্রতি জেমস বন্ড সংশ্লিষ্ট একটি খবর প্রকাশ করেছে, যা রীতিমতো আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পোস্ট করেছে যে জেমস বন্ড নামে অভিযুক্ত, সন্দেহভাজন একজন ব্রিটিশ এজেন্ট ১৯৬০-এর দশকে পোল্যান্ডে এসেছিলেন ইয়ান ফ্লেমিংয়ের ‘০০৭’ ছবির মতোই গোপন সার্ভিসের দায়িত্বে।

প্রতিষ্ঠানটির আর্কাইভের তথ্যানুয়ায়ী, জেমস বন্ড নামের একজন ব্রিটিশ এজেন্ট ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪ সালে পোল্যান্ডে এসেছিলেন এবং ব্রিটিশ দূতাবাসের সামরিক এম্বাসিতে আর্কাইভিস্ট হিসেবে সরকারিভাবে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি খুব দ্রুত পোল্যান্ডের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরে আসেন।

আইপিএন আর্কাইভের পরিচালক মাজিনা ক্রুক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা জানি তিনি (জেমস বন্ড) ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে পোল্যান্ডে ছিলেন।’

‘তিনি পোল্যান্ড কিছুটা ঘোরাঘুরি করেছিলেন...নারীদের পছন্দ করতেন। ছবির জেমস বন্ডের মতোই। তবে মার্টিনি সম্পর্কে একটা শব্দও নেই।’ উল্লেখ্য মার্টিনি উপন্যাসের কাল্পনিক বন্ডের প্রিয় ড্রিংক। মাজিনা ক্রুক আরো জানিয়েছেন, ‘তবে একটা তথ্য রয়েছে যে তিনি পোলিশ বিয়ার (পোল্যান্ডের বিয়ার) পছন্দ করতেন।’

সরকারি দলিলের তথ্যানুসারে বাস্তবের বন্ড পোলিশ গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারিতে ছিলেন। তিনি সোভিয়েত স্যাটেলাইট স্টেট হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিয়ালস্টক ও ওলসটিনে অবস্থিত ‘সামরিক স্থাপনায় প্রবেশের’ চেষ্টা করেছিলেন।

তবে পোলিশ নাগরিকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে অন্য পক্ষের এজেন্টদের সঙ্গে কাজ করার পরিণতি যেকোনো পোলিশের জন্য মারাত্মক হতো।

লেখক ইয়ান ফ্লেমিং নির্মিত ‘দ্য ব্রিটিশ এজেন্ট ০০৭’ ১৯৬২ সালে রুপালি পর্দায় হিট করে। তখন শন কনেরি ফিল্ম ‘ডক্টর নো’ তে অভিনয় করছিলেন। সম্ভবত ব্রিটিশ এজেন্টরা তাদের পছন্দের এ ছদ্মনামটি ব্যবহার করে পোল্যান্ডের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে রসিকতা করেছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘সম্ভবত এটা পোল্যান্ডের গোয়েন্দাদের সঙ্গে মজা ছিল কিংবা তার সেন্স অব হিউমার খুব উঁচুমানের ছিল’—বলেন মাজিনা ক্রুক।

 

সূত্র: হাফিংটনপোস্ট