পুরনো গতি নেই বলিউডের। নেই ব্যবসাও। দক্ষিণ ভারতের ক্রমাগত জনপ্রিয়তাসহ নানা কারণে বলিউড সিনেমার ব্যবসা হচ্ছে না। এর মধ্যেও কিছু ভালো সিনেমা এসেছে। বক্স অফিসেও ভালো আয় করেছে কিছু সিনেমা। আশার জায়গায় বিছু নিরাশা রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যেও একেবারে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না বক্স অফিসে বলিউডের ভূমিকা। তবে তালিকার শীর্ষের সিনেমাগুলো প্রচলিত বলিউড ধারার বাইরের। যেমন দ্য কাশ্মীর ফাইলস। এমন একটি সিনেমার বলিউডে সেরা হওয়ার কথা ভাবেনি কেউ। আবার কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়িক দিক থেকে শীর্ষে থাকা আমির খানের লাল সিং চাড্ডা ব্যর্থ হবে, এমন ধারণাও প্রাথমিকভাবে ছিল না। সে হিসেবে বলিউডের ২০২২ কিছুটা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ই গেল।
বলিউডের বক্স অফিসে ঝড় শুরু হয়েছিল বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত দ্য কাশ্মীর ফাইলস দিয়ে। সিনেমাটি একদিকে যেমন বক্স অফিস কাঁপিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নানা বিতর্ক। যেভাবে কাশ্মীরের ঘটনাবলি উপস্থাপন করেছে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নানা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায় এমনকি সাধারণ মানুষ। কিন্তু দিনশেষে ব্যবসা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দ্য কাশ্মীর ফাইলস এগিয়ে থাকে। প্রায় ২৫০ কোটি রুপি আয় নিয়ে সিনেমাটি আছে বলিউডের এ বছরের আয়ের তালিকার শীর্ষে।
এর পরের জায়গাটি নিয়েছে সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’। সিনেমায় আলিয়া ভাটের অভিনয় প্রশংসিত এবং দর্শক সাদরে গ্রহণ করেছে। নায়কবিহীন এ সিনেমা বছরের শুরুতেই বলিউডকে আশার আলো দেখিয়েছিল। সিনেমাটির মোট আয় ১২৬ কোটি রুপি।
হেরা ফেরির সিকুয়েলে অক্ষয় কুমারের জায়গায় আসতে পারেন কার্তিক আরিয়ান, এ কথা এখন সবার জানা। কার্তিককে অক্ষয়ের জায়গায় আনার ব্যাপারটি আরেকটি সিনেমার কারণে সহজ হয়ে যায়। এ বছর ভুল ভুলাইয়ার সিকুয়vল ‘ভুল ভুলাইয়া টু’তে অভিনয় করেছিলেন কার্তিক। শুরু থেকে সিনেমাটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে দ্বিধা থাকলেও কিয়ারা আদভানি ও টাবু অভিনীত সিনেমাটিকে দর্শক গ্রহণ করেছে। কার্তিকের অভিনয়ও প্রশংসিত। ফলে ব্যবসাও করেছে ভালো। এ পর্যন্ত সিনেমাটির বক্স অফিসে আয় প্রায় ১৮২ কোটি রুপি।
এবার বলিউডে ২০০ কোটির ক্লাবে ঢুকেছে তিনটি সিনেমা। বিবেক অগ্নিহোত্রীর দ্য কাশ্মীর ফাইলস বাদেও এ ক্লাবে আছে অয়ন মুখার্জির ব্রহ্মাস্ত্র ও অভিষেক পাঠকের দৃশ্যম টু। অয়ন বহুদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন একটি মিস্টিক ঘরানার সিনেমা তৈরির। সেখানে তিনি সফল হয়েছেন ভিএফএক্স ব্যবহারের কারণে। সিনেমার গল্প দর্শককে ততটা আকর্ষণ না করলেও ভিজুয়াল ইফেক্টে তাদের সন্তুষ্ট করেছে এ সিনেমার টিম। রণবীর আলিয়ার জুটিও একটি কারণ। এ সবকিছুতে ভর করে সিনেমাটি বক্স অফিসে মোট আয় করেছে প্রায় ২৩০ কোটি রুপি।
দৃশ্যম টুয়ের রিমেক হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু নিশিকান্ত কামাতের অনুপস্থিতি একটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিষয়টি ভালোই সামাল দিয়েছেন অভিষেক পাঠক। অজয় দেবগন, শ্রেয়া শরণ, টাবু ও অক্ষয় খান্না অভিনীত সিনেমাটি দর্শককে এর আগের সিনেমার মতোই আকর্ষণ করেছে। সিনেমাটি এখন পর্যন্ত বক্স অফিসে আয় করেছে প্রায় ২১০ কোটি রুপি।
উল্টোদিকে বেশকিছু সিনেমা বলিউডকে বাজেভাবে হতাশও করেছে। এর মধ্যে প্রথমেই আসে ‘শমসেরা’র নাম। রণবীর কাপুরের ব্রহ্মাস্ত্র একদিকে বড় হিট হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ও দেখেছে তারই সিনেমা। ১৫০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমার বক্স অফিস আয় ৪১ কোটি রুপি। কাতারে আছে আমির খানের লাল সিং চাড্ডা। বয়কটের মুখে গাড্ডায় পড়া চাড্ডার আয় ৬০ কোটি রুপির কাছাকাছি। অক্ষয়ের রাম সেতু ও সম্রাট পৃথ্বীরাজও একইভাবে ফ্লপ। আয় যথাক্রমে ৬৮ ও ৭২ কোটি রুপি। একসময় হিট মেশিন বলা অক্ষয়ও এ বছর বলিউডকে কিছু দিতে পারলেন না।
দক্ষিণের সিনেমা ভালো করেছে এবং তাদের ব্যবসা বলিউডের বক্স অফিসকেও কিছু মুনাফা দিয়েছে। বলাই বাহুল্য, এক্ষেত্রে এগিয়ে কেজিএফ ও আরআরআর। মোটের ওপর বলা চলে বলিউডের জন্য বছরটা ভালো না গেলেও বক্স অফিস চলেছে নিজের নিয়মে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










