বাংলাদেশের মেয়ে মেঘলা মুক্তা। তবে ২০১৯ সালে নায়িকা হিসেবে রুপালি জগতে তার অভিষেক হয়েছিল তেলেগু সিনেমায়। তেলেগুর পর এবার ঢাকাই সিনেমায় অভিষেক হতে যাচ্ছে এ অভিনেত্রীর। আগামীকাল মুক্তি পাবে তার প্রথম বাংলাদেশী সিনেমা ‘পায়ের ছাপ’। এ সিনেমা মুক্তির আগেই অভিনেত্রী শুটিং শেষ করেছেন তার দ্বিতীয় বাংলা সিনেমা কাঠগোলাপের। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনের ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন মেঘলা মুক্তা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

নিজ দেশের সিনেমায় আপনার যাত্রা হতে যাচ্ছে। এ অপেক্ষা কেমন?

এ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। ভালো করে নিজের অনুভূতি বোঝাতে পারব আগামীকাল, ‘‌পায়ের ছাপ’ মুক্তির পর।

পায়ের ছাপ সিনেমায় আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই

নিম্ন-মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের অনেকেরই সংগ্রাম করে চলতে হয়। স্বপ্ন দেখতে তারা ভয় পেলেও একবার স্বপ্ন দেখলে লক্ষ্য পূরণের জন্য চেষ্টা করতে থাকে। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে শত বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া একজন সংগ্রামী নারীর চরিত্রে আমি অভিনয় করছি। লড়াই করে একজন নারীর এগিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়েই পায়ের ছাপ।

সম্প্রতি শুটিং শেষ করা সিনেমার গল্পেও প্রধান চরিত্র একজন নারী। পরপর দুটি নারীপ্রধান সিনেমায় অভিনয় করার কারণ কী?

এটা কাকতালীয়ভাবে হয়েছে আমার সঙ্গে। প্রথমে আমি পায়ের ছাপের প্রস্তাব পেলাম। গল্পটা শোনার পর চরিত্রটা ভালো লাগল। পরে করতে গিয়ে আমার উপলব্ধি হলো এমন চরিত্র করতে পারলে বেশ ভালো হয়, যেটা সমাজে একটা ইতিবাচক বার্তা দেবে। তখন মনে হয়েছিল আমি এমন প্রজেক্টেই যুক্ত হতে চাই। এরপর কাঠগোলাপের গল্পটা শুনে ভাবলাম, এমন কাজ করা যায়। সৌভাগ্যের বিষয়, দুটো গল্পই সামাজিক বার্তা বহন করবে একজন নারীর গল্পের মাধ্যমে। এভাবেই আসলে দুটো নারীপ্রধান গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। 

এখন কি নতুন কোনো গল্পের সঙ্গে আছেন?

অনেক সিনেমা ও ওয়েবের প্রজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছে, অফিশিয়ালি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। আমি অবশ্যই সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্মেও অভিনয় করব। দেখা যাক, নিশ্চিত হলে সবাইকে জানাব আগামী কাজগুলো নিয়ে। 

তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করতে গিয়ে কি ভাষাগত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন?

শুরুর দিকে হয়েছে। যেহেতু তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি আমাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তাই বেশ সমস্যা হয়েছিল। তবে হাল না ছেড়ে চেষ্টা করে গিয়েছি। তেলেগু ভাষা শিখেছি, কিছুটা বাংলা ওদেরও শিখেয়েছি।

নায়িকা হিসেবে রুপালি দুনিয়ায় পা রেখেছেন তেলেগু সিনেমার মধ্য দিয়ে। এ নিয়ে কি আক্ষেপ রয়েছে?

না, এটা নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি যখন তেলেগু সিনেমায় প্রস্তাব পেলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল জীবনে অনেক বড় কিছু অর্জন করলাম। ওখানে অভিনয়ের পর আমার ইচ্ছে আরো বেড়ে যায়, এখন ইচ্ছে নিজের দেশে অভিনয় করার। আমি তো এদেশে বড় হয়েছি, নিজের ভাষায় নিজের দেশের মানুষ আমার অভিনয় দেখুক, এ ইচ্ছা ছিল আমার ভেতর। এ স্বপ্ন আগামীকাল পূরণ হতে যাচ্ছে।

ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার পরবর্তী ভাবনা কী?

নিজের দেশের প্রতি তো টান থাকেই, তাই নিজের দেশে তো কাজ করবই। বাংলাদেশে আমি মাত্র অভিনয় শুরু করলাম। সামনে আরো ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। অন্যদিকে তেলেগুতেও আমি একইভাবে ভালো কাজের সুযোগ পেলে করব। দুটো ইন্ডাস্ট্রিতে সমানভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করব। নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভালো কাজ করে যাব আর বাকিটা নির্ভর করে দর্শকের ওপর।

নতুন কোনো তেলেগু সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন?

না, আমি ভিসা জটিলতার মধ্যে পড়ে গিয়েছি। এখন আমার জন্য ভারতে যাওয়াই সমস্যা হয়ে গিয়েছে। নয়তো এর মাঝে আপনাদের নতুন কোনো সংবাদ দিতে পারতাম। কথা চলছে, তবে এখনো কোনো সিনেমার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হইনি। আশা রাখি ভিসা জটিলতা শেষে ভালো কিছু হবে।