অভিনেতা ডোয়েইন জনসন ‘দ্য রক’ নামেই বেশি পরিচিত। রেসলার থেকে তিনি হয়েছেন অভিনেতা। তার সাম্প্রতিক সিনেমা ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’। এতেও তিনি রেসলার চরিত্রেই অভিনয় করেছেন। মার্ক কার তার চরিত্রের নাম। সিনেমাটির প্রিমিয়ার হলো ইতালির ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে সিনেমার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন দর্শক ও অতিথিরা। এ প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই বলছেন এবার অস্কারের পথে আছেন জনসন।

ডোয়েইন জনসনের বয়স এখন ৫৩ বছর। সিনেমার এ অভূতপূর্ব সাড়া তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। মঞ্চে তিনি অশ্রুসিক্ত হয়েছেন। অবশ্য হওয়ারই কথা। কেননা সিনেমাটি প্রায় ১৫ মিনিটের স্ট্যান্টিং ওভেশন পেয়েছে। উৎসবের এ আসরের দীর্ঘতম অভ্যর্থনা এটি।

রেসলার হলেও সিনেমায় দ্য রক তথা ডোয়েইন জনসনের ক্যারিয়ার দীর্ঘ ও সমৃদ্বিশালী। তিনি ‘দ্য মামি’, ‘রেওয়াচ’-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’ তাকে দিয়েছে ইতিবাচক সমালোচনা। এ সিনেমাগুলো মূলত বাণিজ্যিক। তবে ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ খানিকটা আলাদা। সিনেমায় তিনি নব্বই দশকের এক যন্ত্রণাবিদ্ধ রেসলারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি নিজের ভেতরের দানবদের সঙ্গে লড়ছেন। সিনেমাটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। তবে এটি আগামী নভেম্বরে দর্শকের জন্য মুক্তি পাবে।

দ্য স্ম্যাশিং মেশিনে ডোয়েইন জনসনের বিপরীতে আছেন এমিলি ব্লান্ট। মার্ক কারের প্রেমিকা ডন স্ট্যাপলসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভেনিসে দীর্ঘ করতালির সময় পরিচালক বেনি সাফদি তার দুই তারকাকে জড়িয়ে ধরেন এবং জনসনের সঙ্গে আনন্দের অশ্রুতে ভিজে যান। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাস্তব জীবনের মার্ক কারও। তিনিও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

সিনেমাটির এ প্রতিক্রিয়ার পর অস্কার নিয়ে কথা উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন ডোয়েইন এবার অস্কারে মনোযোগ পাবেন। এ প্রতিক্রিয়া ‘দ্য হোয়েল’-এর প্রদর্শনী-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও ব্রেন্ডন ফ্রেজারের কান্নার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সিনেমাটি পরে অস্কারে গিয়েছিল।

জনসনকে পুরো রাত উৎফুল্ল দেখা গেছে। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে গ্ল্যামারাস রেড কার্পেটে হাঁটলেন, ভক্তদের অটোগ্রাফ দিলেন ও সেলফি তুললেন। এবারের ৮২তম ভেনিস উৎসবটি জর্জ ক্লুনি, জুলিয়া রবার্টস ও এমা স্টোনের মতো তারকায় ভরপুর।

দ্য স্ম্যাশিং মেশিনের জন্য দীর্ঘ ও পরিশ্রমের প্রস্তুতি নিয়েছেন জনসন। তিনি নিজেও রেসলার, কিন্তু মার্ক কার হতে তাকে ভারী প্রস্থেটিক মেকআপ নিতে হয়েছিল। জনসন আগে ভ্যারাইটিকে জানিয়েছিলেন, এ সিনেমায় তিনি আগ্রহী হয়েছেন কারণ সাফদি এমন একজন পরিচালক, যিনি সত্যিকারের ও মূলানুগ গল্প বলতে ভালোবাসেন। তিনি এমন চরিত্র দেখাতে চান, যাদের মধ্যে মানবিকতা, অস্বস্তি ও টানাপড়েন থাকে।

দ্য স্ম্যাশিং মেশিন মূলত বেনি সাফদির প্রথম ফিচার ফিল্ম। তিনি এর আগে ভাই জশ সাফদির সঙ্গে ‘গুড টাইম’ ও ‘আনকাট জেমস’-এর মতো ইন্ডি সিনেমায় কাজ করেছেন। তিনি সিনেমা দুনিয়ায় মোটামুটি প্রশংসিত। তবে প্রথম ফিচার ফিল্ম দিয়েই সাড়া ফেলে দিলেন। এদিকে ডোয়েইন জনসনও দারুণ জনপ্রিয় অভিনেতা। তবে তিনি এবার নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি এখন এমন এক পর্যায়ে আছি যেখানে নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। নতুন কিছু করতে চাই, যেভাবে আগে করিনি। আমি এমন সিনেমা বানাতে চাই, যা সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ। এমন সিনেমা যা মানবিকতা, সংগ্রাম ও যন্ত্রণার কথা বলে।’

সূত্র: ভ্যারাইটি