ওপেনহেইমার নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ভিন্ন রকমের। প্রতিটি সিনেমায়ই নানাভাবে দর্শককে চমক দেন ক্রিস্টোফার নোলান। একটি সিনেমা শেষ করে পরের সিনেমার জন্য নতুন করে নিজেকে তৈরি করেন। তৈরি করেন তার অভিনেতাদেরও। কিন্তু এর মধ্যে দর্শকের আগ্রহ ছিল নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ নিয়ে। ক্রিস্টোফার নোলান সব সিনেমায়ই বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে চান দর্শককে। সে কারণেই দর্শকের প্রশ্ন ছিল, এবার নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণটাও সত্যিই করবেন কিনা। দর্শক ও বিশ্বকে স্তম্ভিত করে নোলান সত্যিই একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধারণ করলেন ক্যামেরায়। এবার তা দেখা গেল ট্রেলারে।
বর্তমানে বেশির ভাগ সিনেমায়ই সিজিআই ব্যবহার করে কঠিন সব দৃশ্যায়ন করা হয়। কিন্তু নোলান তাতে রাজি নন। তিনি এ কারণে প্রথম নিউক্লিয়ার ডেটোনেশনের দৃশ্যটি নিজের মতো করে তৈরি করেছেন। নোলান ঠিক করেন ‘ট্রিনিটি টেস্ট’ নামে ঘটনাটি তিনি সিজিআই ছাড়াই তৈরি করবেন। এর আগেও তার সিনেমাগুলোয় নানা কঠিন দৃশ্য কোনো রকম কম্পিউটার ইফেক্ট ছাড়া তৈরি করেছেন। তবে ওপেনহেইমারের দৃশ্যের মতো কোনোটি এত কঠিন ছিল না। দৃশ্যটি প্রথমত বড় পরিসরে করা হয়েছে এবং এর জন্য ঝুঁকিও ছিল প্রচুর। সম্ভবত নোলানের মতো পরিচালক ছাড়া এ ধরনের পরিকল্পনা কেউ করতেন না।
নোলান নিজেও জানিয়েছেন, কাজটা কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার না করে ট্রিনিটি টেস্টের দৃশ্য তৈরি করা বেশ কঠিন একটা কাজ বলে মনে করি। আমার ভিজুয়াল ইফেক্ট সুপারভাইজার অ্যান্ড্রু জ্যাকসনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম, ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার না করে যতটা সম্ভব বাস্তব ঘটনার মধ্য দিয়ে এর দৃশ্যধারণ করতে। নিউ মেক্সিকোয় কোয়ান্টাম ফিজিক্সের সূত্র ব্যবহার করে বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমরা কাজটি করেছি।’ সিনেমাটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এবং সেখানে অনেক ধরনের কাজ করার সুযোগ আছে, নোলান তা জানতেন। তিনি এটাই মনে করেন, এখানে নতুন অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে নেয়া সর্বাধিক চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট। ওপেনহেইমারের জীবনের আড়ালে আরো অনেক ঘটনা তুলে ধরার সুযোগ ছিল। আমার ক্যারিয়ারে এত বিস্তৃত ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট আর কোনোটি ছিল না।’
সিনেমায় কিলিয়ান মারিফি অভিনয় করছেন বিজ্ঞানী ওপেনহেইমারের চরিত্রে। তার লুক প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই ধরে নেয়া হয়েছিল, নোলান তার সেরা কাজটিই করতে যাচ্ছেন। আর কিছুদিন আগেই যখন প্রকাশ হলো যে নোলান একটি বিস্ফোরণই ঘটিয়েছেন, তখন সবাই বাক্যহারা। ট্রেলারে বিস্ফোরণ দেখে বোঝা যায় রীতিমতো এর জন্য আলাদা দল ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিলেন নোলান। পুরো কার্যক্রমের বিস্তারিত এখনো অবশ্য জানা যায়নি। তবে তিনি তার পুরো দলকে এ কাজের কৃতিত্ব দিয়েছেন। এদিকে গতকাল প্রকাশিত ট্রেলারটিতে এ সিনেমা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেল। ২ মিনিট ৩ সেকেন্ডের এ ট্রেলার দেখে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যবহার করা না হলেও চিত্রায়ণের আরেকটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে ওপেনহেইমার।
সূত্র: ভ্যারাইটি










