ভারতের বাজারে নেটফ্লিক্স আর ডিজনির সঙ্গে পাল্লা দিতে ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট’-এর সঙ্গে একীভূত হচ্ছে সনি পিকচার্সের ভারতীয় ইউনিট, যার মধ্য দিয়ে গঠিত হচ্ছে বিরাট এক টিভি নেটওয়ার্ক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জি এন্টারটেইনমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ এই মার্জার চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোয় তারা বিষয়টি জানিয়েও দিয়েছে।
এ চুক্তির ফলে এত দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই কোম্পানির নেটওয়ার্ক, টেলিভিশন চ্যানেল, ফিল্ম অ্যাসেট, স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, প্রডাকশন অপারেশনস এবং প্রোগ্রামের সংগ্রহশালা একীভূত হয়ে যাবে। তাতে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিনোদন নেটওয়ার্কে পরিণত হবে এ একীভূত কোম্পানি।
একীভূত কোম্পানির ৫০ দশমিক ৮৬ শতাংশের মালিকানা থাকবে ‘সনি পিকচার্স নেটওয়ার্কস ইন্ডিয়ার’
হাতে। ৪৫ দশমিক ১৫ শতাংশের মালিকানা ‘জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস’-এর হাতে। আর বাকি ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ পাবেন জি এন্টারটেইনমেন্টের উদ্যোক্তারা।
তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে একীভূত কোম্পানি হিসেবে। জি এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান পুনিত গোয়েঙ্কাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। ভারতের বাজারে এখনো কেবল টিভির প্রাধান্য থাকলেও নেটফ্লিক্স, অ্যামাজনের প্রাইম ভিডিও এবং ডিজনির হটস্টার আসার পর গত কয়েক বছরে স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
একীভূত হওয়ার ফলে সনি-জি জোটের হাতে থাকবে সংবাদ, বিনোদন, খেলা, সিনেমা মিলিয়ে প্রায় ৭৫টি টিভি চ্যানেল আর জি ফাইভ ও সনি লাইভের মতো স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম। তাতে ডিজনির স্টার নেটওয়ার্কের পর ভারতের বিনোদন বাজারে সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠবে এ জোট। চুক্তি শেষে সনি পিকচার্সের হাতে যাবে নগদ দেড় বিলিয়ন ডলার। পুনিত গোয়েঙ্কাকে জি এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে ব্যবস্থাপনায় রদবদলের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন শীর্ষ বিনিয়োগকারীরা। এখন সে জটিলতা কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই কোম্পানির একীভূত হওয়ার খবরে জির শেয়ারের দাম বেড়েছে ভারতের পুঁজিবাজারে।
সূত্র: রয়র্টাস










