বিশ্ববাসীর সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল করোনা মহামারীর ছোবলে। দিনের পর দিন লকডাউন, ঘরের ভেতর আবদ্ধ জীবন, কম্পিউটারে বন্দি ক্লাসঘর—সব মিলিয়ে নতুন এক অসহায় পৃথিবীর দেখা পেয়েছিল এই সময়ের মানুষ। সেই সঙ্গে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা। করোনায় ঘরবন্দি নগরজীবন জীবনের অন্য অর্থ এনে দিয়েছিল সে সময়ে। সেই অবরুদ্ধ জীবনের গল্পগুলো শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান তুলে ধরেছেন তার শিল্পকর্মে। স্থাপনা শিল্প ও ইলাস্ট্রেশনের সেই শিল্পকর্মগুলো নিয়ে ‘করোনায় আত্মসন্ধান’ শিরোনামে শনিবার শুরু হয়েছে কলাকেন্দ্রের শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।

শিল্পী ওয়াকিলুর রহমান বলেন, ‘করোনাকালে ঘরবন্দি সময়ের গল্পগুলো আমি স্থাপনা শিল্পে ফুটিয়ে তুলতে শুরু করি কঠোর লকডাউনের ওই সময়ে। প্রতিদিন সেসব স্থাপনা শিল্পের ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড করতাম। আড়াই মাস ধরে বানানো সে শিল্পকর্মগুলো এবার গ্যালারি কনটেক্সটে উপস্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি৷, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিছু ইলাস্ট্রেশন। তার শিল্পকর্মগুলোয় লকডাউনকালীন নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবন যেমন চিত্রিত হয়েছে, তেমনিভাবে প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গও যুক্ত হয়ে এনে দিয়েছে ভিন্ন দ্যোতনা। মানবমনের বিচিত্র খেয়াল বিমূর্ত হয়েছে একাধিক শিল্পকর্মে।’

শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর কিউরেটর শর্মিলি রহমান বলেন, ‘প্রদর্শনীটি একজন শিল্পীর করোনা মহামারীর সময় গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত স্থান এবং সময়ের একটি ধ্যানধর্মী উপস্থাপনা। উন্মুক্ত পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন, স্বনির্বাসনে স্বেচ্ছা বিচ্ছিন্ন এক পরিবর্তিত গার্হস্থ্য দৃশ্য শিল্পীর জাগতিক সম্পর্কগুলো পুনরায় উদ্ভাবনের মঞ্চ হয়ে ওঠে। গ্যালারির স্থানটি করোনা সময়ের নানা নান্দনিক চর্চার উপকরণ ব্যবহার করে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। শিল্পীর প্রতিদিনের অনুশীলন ছিল, এক অর্থে, সেই সময়ের ভয়াবহতা ও অনিশ্চয়তা এড়ানোর একটি উপায় মাত্র।’

সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনীটি চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে প্রদর্শনীটি।