‘ফরেস্ট গাম্প’ সিনেমায় একটি পুরস্কার পেতে দেখা যায় টম হ্যাঙ্কসকে। ফরেস্ট চরিত্রটি প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসনের কাছ থেকে কংগ্রেশনাল মেডেল অব অনার গ্রহণ করে। বাস্তব জীবনেও হ্যাঙ্কসের একটি সামরিক সম্মাননা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেটি পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্টের সাবেক ছাত্র সমিতি (অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন) এ আয়োজন বাতিল করেছে।

মূলত ওয়েস্ট পয়েন্ট মে মাসে ঘোষণা করেছিল যে তারা ২০২৫ সালের সিলভানাস থেয়ার পুরস্কার প্রদান করবে টম হ্যাঙ্কসকে। পুরস্কারটি একজন ‘জাতীয় স্বার্থে তার সেবা ও কৃতিত্ব’ দেখানোর জন্য একজন মার্কিন নাগরিককে দেয়া হয়। ‘ডিউটি, অনার, কান্ট্রি’—ওয়েস্ট পয়েন্টের মূলমন্ত্র। যে নাগরিক এ আদর্শগুলোর প্রতি ব্যক্তিগত নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন, তাকেই পুরস্কার দেয়া হয়।

তবে এখন ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ওয়েস্ট পয়েন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব গ্র্যাজুয়েটস অভিনেতাকে সম্মান জানানোর অনুষ্ঠানটি বাতিল করেছে।

ফ্যাকাল্টিকে পাঠানো এক ই-মেইলে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মার্ক বিগার বলেছেন, সিদ্ধান্তটি একাডেমিকে ‘এর মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক বাহিনী হিসেবে মার্কিন সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে ক্যাডেটদের নেতৃত্ব, যুদ্ধ ও জয় করার জন্য প্রস্তুত করার কাজে মনোযোগী থাকা’র সুযোগ দেবে।

টম হ্যাঙ্কসের অভিনয় জীবনের পাশাপাশি তিনি ওয়াশিংটন ডিসির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের জাতীয় মুখপাত্র ছিলেন এবং প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর বব ডোলের নেতৃত্বে ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির জন্য তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করেছিলেন—এমনটাই বলা হয়েছিল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মূল ঘোষণায়।

এখনো পরিষ্কার নয়, কীভাবে হ্যাঙ্কসকে সম্মান জানানো ক্যাডেটদের ‘প্রস্তুতি নেয়ার’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন তিনি বাইডেন প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির নিরাপত্তা অনুমোদন ও নিরাপত্তা দল প্রত্যাহার করেছেন; কিছু সংবাদমাধ্যমকে পেন্টাগনের অফিস ও হোয়াইট হাউজের প্রেস পুল থেকে বাদ দিয়েছেন এবং কিছু আইন ফার্মের নিরাপত্তা অনুমোদন বাতিল ও তদন্ত শুরু করেছেন। কারণ তিনি তাদের ‘খুবই অসৎ’ বলে মনে করেন। হ্যাঙ্কসও তার রোষানলে পড়েছেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

সূত্র ও ছবি: দ্য গার্ডিয়ান