গত মাসে অনুষ্ঠিত হলো কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৭তম আসর। এ বছর কান উৎসবে বেশকিছু অর্জন হয়েছে ভারতের। ভারতীয় পরিচালক পায়েল কাপাডিয়া পেয়েছেন চলচ্চিত্র উৎসবে মর্যাদাপূর্ণ গ্র্যাঁ পিঁ পুরস্কার। তার পরিচালিত প্রথম ফিচার ফিল্ম, ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’-এর জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জিতে নিয়েছেন এ বিশেষ সম্মাননা। উৎসবের শেষ দিন আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছেন পায়েল। প্রথম ভারতীয় পরিচালক হিসেবে পায়েল জিতেছেন এ পুরস্কার।
অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট সিনেমার গল্প তৈরি হয়েছে দুজন নার্সকে নিয়ে। মালয়ালম ভাষাভাষী এ দুই নার্স একটি হাসপাতালে কাজ করেন। তাদের একজন প্রভা, যিনি বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপড়েনে আছেন এবং অন্যজন আনু, যার একজন মুসলিম ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। দুজনের এ টানাপড়েন নিয়েই সিনেমার গল্প।
এছাড়া যখন কাপাডিয়ার নাম গ্র্যাঁ পিঁর জন্য ঘোষণা করা হয়, তিনি মঞ্চে ওঠেন সিনেমার তিন অভিনেত্রী কানি কুসরুতি, দিব্যা প্রভা ও ছায়া কদমকে সঙ্গে নিয়ে। স্ক্রলের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ওরা ছাড়া গ্র্যাঁ পিঁ পর্যন্ত পৌঁছানো যেত না। অভিনেত্রীরা সিনেমার চিত্রলিখনেরও একটি বড় অংশ। সিনেমাটি সত্য ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে তৈরি হয়েছে।’
পায়েল এ সিনেমা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। পুরো টিম নিয়ে তিনি কান উৎসবে পৌঁছেছিলেন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দুদিন আগেই। এছাড়া গত ২৫ মে কান উৎসবে পুরস্কার বিতরণী পর্ব ছাড়াও নাচ-গানের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে পুরো আয়োজন। নানা দেশ থেকে সেখানে হাজির হয়েছেন শত সিনেমা পরিচালক, যার মধ্যে পর্তুগিজ ফিল্মমেকার মিগুয়েল গোমস, যিনি নিজেও জিতেছেন গ্র্যান্ড প্রিক্স পুরস্কার। তার কাছ থেকেও নিজের সিনেমা নিয়ে পায়েল প্রশংসা পেয়েছেন।
সেই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশংসা করেছেন প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পায়েলের এ বিশেষ অর্জনের জন্য। পৃথিবীব্যাপী শত সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ ৩০ বছর পর ভারতীয় কোনো সিনেমা নমিনেশন পেয়েছে। শেষবার ১৯৯৪ সালে নির্মাতা সাজি কারুনের ‘সোয়াহা’ সিনেমাটি কানের গ্র্যাঁ প্রিঁ জিতেছিল।
এছাড়া এ সিনেমার উপপরিচালনায় পায়েলের সঙ্গে ছিলেন ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জেয়ান্নিই সারফাতি ও ক্লাইমেন্ট পিনটেক্সয়া, যার ফলে অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমার গতানুগতিক ধারা থেকে আলাদা কিছু করেছে।
পায়েল কাপাডিয়া তার এ বিশাল প্রাপ্তির পেছনে মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। সিনেমার মধ্য দিয়ে সহজভাবে সাধারণ জীবনের গল্পকে এতটা শৈল্পিকভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা মায়ের কাছ থেকেই শেখা বলে জানান পায়েল। তিনি বলেন, ‘আমার মা সর্বদা চেষ্টা করেছেন আমাকে অনেক বেশি শিল্প ভাবনার মধ্যে বড় করার, তিনি আমাকে যেকোনো জিনিস নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছেন। এছাড়া সবকিছু নিয়েই তার মধ্যে অনেক বেশি চঞ্চলতা কাজ করত। এমনকি হোক সেটি কোনো খাবার রান্না করা বা একটা গাছ লাগানো। আমার এখনো মনে পড়ে, ছোটবেলায় আমরা একবার ঘর পরিষ্কার করছিলাম এবং সে সময় একটা পানির পাইপ ফেটে গিয়েছিল। আমরা সেটি বন্ধ না করে অবাক হয়ে শুধু দেখছিলাম, কীভাবে পানিগুলো গড়িয়ে পড়ছে। শৈশবের এ স্মৃতিগুলো আমার মনে রয়ে গেছে।’
বলা যায়, পায়েলের এ ধরনের ভাবনাগুলোর ফলেই ২০২৪-এর সেরা একটি মারাঠি ফিল্ম হিসেবে দর্শক পর্দায় অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইটকে পেয়েছে।










