দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছেন মালা সিনহা। ১১ নভেম্বর পা দিলেন ৮৬ বছরে। ২০১৩ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন এ অভিনেত্রী। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে তার নামই লেখা ছিল না। তাই সে পুরস্কার ফিরিয়ে দিতেও দ্বিতীয়বার ভাবেননি। সে ঘটনা তাকে কতটা আঘাত করেছিল সম্প্রতি তা নিয়ে মুখ খুললেন পেয়াসা অভিনেত্রী। 

১৯৪৬ সালে বাংলা ভাষার জয় বৈষ্ণব দেবি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পথচলা শুরু হয় মালার। এরপর তিনি পেয়াসা, গুমরাহ ও ধুল কা ফুলের মতো বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। পান কাজের বেশকিছু প্রতিদানও। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তা গ্রহণ না করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন তিনি। বলেন, ‘তারা আমার সঙ্গে চরম অবিচার করেছে। আমন্ত্রণপত্রে আমার নামও উল্লেখ করেনি। ফালকে কমিটির সদস্য এমনকি চেয়ারপারসনও আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন একজন কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে আমি এ পুরস্কার গ্রহণ করি।’

কিন্তু যখন সে আয়োজনের আমন্ত্রণপত্রটি এলো, দেখা গেল সেখানে অন্য দুজন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিল্পী আশা ভোঁসলে ও পামেলা চোপড়ার (যিনি তার প্রয়াত স্বামী পরিচালক যশ চোপড়ার হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করবেন) নাম থাকলেও মালা সিনহার নাম নেই। তিনি বিষয়টাকে খুবই অপমানজনক উল্লেখ করে জানান, ‘তারা যদি সরাসরি আমার গালে চড় মারত, সেটাও এভাবে অপমান করার থেকে ভালো ছিল।’ 

মালা সিনহা তার বহু সিনেমার কারণেই বলিউডে জনপ্রিয়। তবে পেয়াসার জন্য বিশেষভাবে তাকে মনে রেখেছে দর্শক। যদিও এ সিনেমায় তার চরিত্রটি খুব বড় ছিল না। এছাড়া ১৯৬২ সালের ‘আনপড়’ সিনেমার জন্যও তিনি প্রশংসিত। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবার। ২০০৭ সালে স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসের পক্ষ থেকে পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। ২০১৮ সালে এ পুরস্কার দেয় ফিল্মফেয়ার। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৬৫ ও ১৯৬৭ সালে পেয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার। এছাড়া নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। তবে সমস্যাটি হয়ে গেল ভারতের সিনেমার সবচেয়ে বড় পুরস্কারটির বেলায়ই। কর্তৃপক্ষের আচরণ তিনি মেনে নিতে পারেননি। 

সে সময়ে একটি প্রেস কনফারেন্সও করেন মালা, যেখানে আশা ভোঁসলে বা পামেলা চোপড়া কেউই উপস্থিত হননি। তিনি বলেন, ‘তারা আগের সপ্তাহেই আমন্ত্রণপত্র নিয়ে এসেছিল। শুধু এভাবে আমাকে অপমান করতে। ছবির কথা বাদই দিলাম, আমন্ত্রণপত্রে তারা আমার নামটা পর্যন্ত দেয়নি। আমি ওদের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে চলে যেতে বলি। আমার তাদের পুরস্কার দরকার নেই। শিল্পী হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় অপমান। কতটা মন খারাপ হয়েছিল বোঝাতে পারব না। মানলাম আশা ভোঁসলে আর যশ চোপড়া অনেক বড় শিল্পী। কিন্তু আমি নিশ্চয়ই এত ছোট শিল্পীও নই যে আমার নাম বাদ পড়ে যাবে। তাহলে আমাকে এ পুরস্কার দিতে হবে না। আমি পুরস্কার চাই না।’


সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস