ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার সিনেমা মেগালোপলিস। সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শন করা হয়েছে। সেখানে এটি দীর্ঘ সময় স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেয়েছে। মেগালোপলিস নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কপোলা। এটি তার ড্রিম প্রজেক্ট। সম্প্রতি তিনি জানালেন, নিছক একটা চকমকা হলিউড সিনেমা নির্মাণ করতে চাননি তিনি। মেগালোপলিস সে ধারার সিনেমাও নয়।
রোলিং স্টোনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কপোলা বলেন, ‘আমরা এমন কোনো সিনেমা বানাতে চাইনি, যা আর দশটা হলিউড সিনেমার মতো হয়, যা দর্শককে জ্ঞান দেয়।’ মেগালোপলিস একটি কল্পনার দুনিয়ার কথা বলে। রোমের আদলে নির্মিত এ দুনিয়ার শহরটি ভবিষ্যতের নিউইয়র্ক। এ ধারার অনেক সিনেমাই দর্শকের জন্য ক্লান্তিকর হয়। কপোলার মতে, তিনি তা করতে চাননি।
ফ্রান্সিস আরো জানান, সিনেমার অভিনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নানা ঘটনা ঘটেছিল। যারা বাদ পড়েছিল, পরে আবার তাদেরই যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে কপোলা বলেন, ‘এ সিনেমার অভিনেতাদের মধ্যে অনেকেই একটা সময় বাদ পড়েছিল। পরে আবার তারা যুক্ত হন। প্রত্যেক অভিনেতারই রাজনৈতিক ভিন্নমত আছে, কিন্তু আমরা কাজ করেছি একটা সিনেমায়, একটা আইডিয়া নিয়ে। বিষয়টা আমার জন্য কৌতূহলোদ্দীপক ছিল।’
এ সিনেমায় আছে সিয়া ল্যাবেওফ। তাকে নিয়ে বেশকিছু অভিযোগ ছিল। কিন্তু কপোলা তাকে কাস্ট করেছেন। সেই সঙ্গে তার প্রশংসাও করেছেন। কপোলা বলেন, ‘তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না আমার। কিন্তু তিনি নির্মাতার সঙ্গে নিজের একটা যোগসূত্র তৈরি করে নেন। সিয়ার সঙ্গে কাজ করে আমার ডেনিস হপারের কথা মনে পড়েছে। সেও একই রকম ছিল অনেকটা। আমি একটা কিছু বোঝাই, তারপর তারা দারুণ কিছু করে ফেলেন।’
মেগালোপলিসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন অ্যাডাম ড্রাইভার। তিনি অভিনয় করেছেন একজন স্থপতির চরিত্রে। তার স্বপ্ন একটা ইউটোপিয়ান শহর তৈরি করার। ফলে শহরের মেয়রের সঙ্গে তার শত্রুতা তৈরি হয়। সিনেমায় আরো অভিনয় করছেন অব্রে প্লাজা, ডাস্টিন হফম্যান, লরেন্স ফিশবার্ন প্রমুখ।
মেগালোপলিস নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষত কান চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি প্রদর্শনের পরই সমালোচকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কেউ বলছেন এটি চমৎকার সিনেমা। আবার কারো মতে, এ সিনেমা সিনেমাটিকভাবে বিশৃঙ্খল। এখন বক্স অফিসে এটি কেমন করে, তা-ই দেখার বিষয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে মেগালোপলিস।
সূত্র: ভ্যারাইটি










