জন উইক চরিত্রে অভিনয় করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন অভিনেতা কিয়ানু রিভস। এ সিরিজের চতুর্থ সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সামনের মাসে। সিনেমাটির এক প্রচারণা অনুষ্ঠানে কথোপকথনে উঠে এল প্রযুক্তির প্রতি তার বিরাগ। হলিউডে ডিপফেক প্রযুক্তি আসছে এবং তা অভিনয় শিল্পের জন্য অশুভ বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করেন কিয়ানু। তিনি জানিয়েছেন, সিনেমায় অভিনয়ের সময় এর নির্মাতাদের তিনি আগেই শর্ত দেন, যেন তার পারফরম্যান্সে কোনো রকম কৃত্রিমতা তৈরি না হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের কৃত্রিমতা তৈরি করায় তার অনুমতি নেই।

কিয়ানু বলেন, ‘‌কেউ যদি প্রযুক্তির সাহায্যে একটা ছোট অংশ বাদ দেয়, তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু ২০০০ সালের শুরুর দিকে আমার একটি পারফরম্যান্সে কিছু বদল আনা হয়েছিল। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার চোখে পানি দেখিয়েছিল। আমার মনে হয়েছিল, এখানে তো আমার থাকারই দরকার নেই।’

এখানেই শেষ করেননি কিয়ানু। সিনেমায় পারফরম্যান্সের মৌলিকতা নিয়ে তিনি চিন্তিত। এ নিয়ে বলেন, ‘‌আপনি যখন অভিনয় করেন, নিশ্চিত থাকতে পারেন যে সেটা সম্পাদনা হবে। সেখানে আপনার অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু আপনি যদি ডিপফেকের মধ্যে যান, তাহলে আপনার নিজস্ব কিছু আর থাকে না। বিষয়টি রীতিমতো ভীতিকর। তবে মানুষ এ বিষয়গুলোর সঙ্গে নিজেকে কেমন করে মানিয়ে নেয়, তা দেখা দরকার। প্রযুক্তির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। এখন সবকিছু তথ্য দিয়েই করা হয়।’

কিয়ানুর সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা সম্ভবত দ্য ম্যাট্রিক্স। কিন্তু এ সিনেমার অ্যাকশন ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও তিনি দ্বিধায় ভোগেন। তিনি সরাসরিই স্বীকার করেন, সিনেমায় দেখানো অ্যাকশনের অনেক বিষয় বাস্তব ছিল না। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এক কিশোরকে তিনি এ কথা বলেছেন। ১৫ বছর বয়সী কিশোরকে তিনি এ ব্যাখ্যা করলে সে বলেছিল, ‘বাস্তব না হলে কী-ই বা আসে যায়!’

রিভস বলেন, ‘‌আমরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি দিয়েই সব করা যায়। আর ব্যাপারটাকে অনেকেই দারুণ কোনো বিষয় মনে করেন। আমার মনে হয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আমরা বাস্তব ও কৃত্রিমের পার্থক্য ভুলে যাব। আমাদের এগিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই।’

সূত্র: ভ্যারাইটি