দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ। ভিন্নধারার কাজ করে দর্শকের মনে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। তার নির্মিত একাধিক নাটক, সিরিজ ও টেলিফিল্ম তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেকোনো উৎসবেই তার নির্মাণ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। ক্যারিয়ার ও নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
সিনেমা নির্মাণের জন্য গল্প তৈরি আছে বলেছিলেন। সিনেমা নির্মাণ নিয়ে কী ভাবছেন?
সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ হবে। যদি দেশের পরিস্থিতি আর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকে, খুব শিগগির কাজ শুরু করব। এ বছরই হতে পারে সেটা।
পরিচালনায় প্রায় এক যুগ পার হলো, দেশের বিনোদন দুনিয়া নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?
২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে পরিচালনা করছি। শুরুর দিকে অনেক কষ্ট হয়েছে। অনেক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ারের সূচনা। কারো সাহায্য ছাড়া মিডিয়ায় উঠে আসা খুব কঠিন। প্রত্যেক জায়গায়ই স্বার্থপরতা রয়েছে, তবে মিডিয়ায় এটা বেশি। এখানে সবার ভাবনা, কিছু পেলে কিছু করার। মিডিয়ায় কারোর জন্য কেউ কিছু করে না। সে জায়গায় মিডিয়ার বাইরে থেকে এসে মিডিয়ায় যুক্ত হওয়া অনেক কঠিন ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেটা ঠিক হয়ে গেছে। ২০১৫ সালের পর থেকে এখানে আমার ক্যারিয়ারটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ্, আমি মনে করি, পরিচালক হিসেবে সব মিলিয়ে আমি খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি, এটা অতুলনীয়। নিজেকে আমি ভাগ্যবান মনে করি। তাই আজ এ জায়গায় এসেছি।
হতাশার সময়ে আপনার অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস কী ছিল?
আমার অনুপ্রেরণা আমি নিজেই। হতাশ হয়েছি, আবার নিজেই নিজেকে চিয়ার আপ করে সামনে এগিয়েছি। তবে কিছু কাছের মানুষের কাছ থেকেও আমি সবসময় অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে আমার বাবা-মা ও স্ত্রী তানিয়া। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জীবনচক্রটা আমি সবসময় অনুসরণ করতাম। খেলোয়ার হিসেবে না দেখে আমি বরং তার জীবনটা সাধারণ মানুষের গল্প হিসেবে দেখি। এটা থেকে আমি অনুপ্রেরণা পাই।
ওটিটিতে আপনার কাজ দর্শক কবে দেখতে পাবে?
ওটিটি নিয়ে আমার কনসেপ্ট খুব সহজ। সেটা হলো আমি যদি বেঁচে থাকি, একটা সময় ওটিটিতে কাজ করবই। আমার কোনো তাড়াহুড়া নেই এ নিয়ে। সবাই এখন ওটিটি প্লাটফর্মের সঙ্গে কাজ করছে। আমি আস্তে-ধীরে ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে-চিন্তে ওটিটিতে কাজ করতে চাই।
বাংলাদেশে ওটিটি প্লাটফর্মের বাজার নিয়ে কী ভাবছেন?
আমাদের দেশের কনটেন্ট দুর্দান্ত হচ্ছে। তবে ভাবি, আমরা যেন কাজের খেই হারিয়ে না ফেলি। স্বজনপ্রীতি, গ্রুপপ্রীতি কিংবা সিন্ডিকেট করে এ প্লাটফর্মটা নষ্ট না করলে ভালো হয়। যারা এ কাজ করেন, তাদের কাছে মিনতি, এটা করবেন না। যারা সত্যিকার অর্থেই কাজ জানেন, তারা সুযোগ পেলেই এ জায়গায় এগিয়ে যাবে।
আপনার আসন্ন কাজ নিয়ে কিছু বলুন।
সামনে কিছু সিরিজ ও সিরিয়াল করব। এছাড়া ওটিটিতে কিছু কাজের কথা চলছে, সব মিলে গেলে সেগুলো করব।
ভারতের ‘নেক্সজেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ এবং ‘প্যারাডক্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ আপনার তিনটি নাটক ২৮টি পুরস্কার পেয়েছে। এ অর্জন নিয়ে বলুন।
এটা আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। দেশ থেকেও বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছি, এটাও অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে দেশের বাইরে যেখানে সবাইকে চিনি না, সেখানে নিরপেক্ষভাবে ওই মানুষগুলো আমার নির্মাণ দেখে এবং ভালো বলে, তখন একজন নির্মাতা হিসেবে সেটাকে একটা বড় প্রাপ্তি মনে হয়।
অনেক তরুণ তারকাদের নিয়ে কাজ করেন, এর কারণ কী?
আমার মনে হয় তরুণদের নিয়ে কাজ করাটা উচিত। বেশির ভাগ সফলদের দিয়ে কাজ করাতে চান। তবে আমার কাছে মনে হয়, ঝুঁকি নিয়ে সফলতা পাওয়াটা নির্মাতা হিসেবে সার্থক। আমি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিই সবসময়। এ জায়গা থেকেই নতুন তারকাদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। শুধু নতুন নয়, যাকে দিয়ে কাজটা হবে বলে মনে করি, তার সঙ্গেই কাজ করা হয়। নতুন বললে হবে না, যখন আমি বুঝতে পারব তাকে দিয়ে কাজ হবে, তখনই আমি তার সঙ্গে কাজ করব। এখনকার যুগে নিজের প্রতিভা দেখানোর অনেক সুযোগ রয়েছে।
সিনিয়রদের অনেকের আক্ষেপ, ভালো নাটক হচ্ছে না। এ নিয়ে আপনি কী ভাবেন?
আমার মনে হয় তাদের ধারণা আংশিক সত্য, পুরোপুরি সত্য নয়। এ বিষয়ে আমি এতটুকুই বলব।










