ক্যারিয়ারে ১৫ বছর পার করলেন বলিউডের রঙিন জগতে কাপুর বাড়ির ছেলে রণবীর কাপুর। ২০০৭ সালে ‘‌সাওয়ারিয়া’ দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। সে সিনেমার নির্মাতা ছিলেন নামজাদা পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি। জীবনের প্রথম সে সিনেমার সেটকে নিজের জন্য একটি স্কুল বলে মনে করেন এ অভিনেতা। তার কারণটাও অবশ্য যৌক্তিক, বানসালির কাছ থেকেই অনেক কিছু শিখেছেন তিনি। তার একটি হলো, ভালো শট পাওয়ার জন্য কয়েকবার শট দিতেও লজ্জাবোধ না করা। সাওয়ারিয়া সিনেমায় একটি শট ঠিকঠাক মতো পাওয়ার জন্য টানা ৭০ বার দিয়েছেন রণবীর।

এর আগে ফিল্ম কম্প্যানিয়নকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও রণবীর জানান, ‘বানসালি এমন একজন পরিচালক, যিনি ৪৫ বারের কম টেকে কোনো দৃশ্যধারণ সম্পূর্ণ করেন না, যদি সেটা শুধু অভিনেতার মাথা ঘোরানোর দৃশ্যও হয় তাহলেও। ‘তোয়ালে গান’ নামেই সবার কাছে বেশি পরিচিত ‘যাব সে তেরি ন্যায়না’ গানটি। এ গানের একটি দৃশ্যের জন্য ৭০ বার চেয়ার থেকে পড়তে হয়েছে অভিনেতাকে। তার পর বানসালি পান তার পারফেক্ট শট।

রণবীর ব্যাখ্যা করেন, ‘গানটিতে একটি দৃশ্য রয়েছে, সেখানে একটি চেয়ারে ঘুরে বসতে আর পড়ে যেতে হবে, সেখানে তোয়ালেটা পড়তে হবে একটি নির্দিষ্টভাবে যেন আমার পা দেখা যায়। এছাড়া আরেকটি শটে আমি হাসতে হাসতে শুয়ে পড়ব এবং তারপর উঠব ও গান গাইব। কোন বিটটি ধরা হচ্ছে সে ব্যাপারে বানসালি খুবই নির্দিষ্ট। তিনি খুবই মিউজিক্যাল পরিচালক। তুমি এই বিটে পড়ে গেছো, এখানে মাথা তুলে নিয়েছো আর এখানে হেসেছো, সবটাই হবে মিউজিক্যাল। প্রতিদিন ৪৫-৫০টি টেক দিতাম। মনে হচ্ছিল সত্যিই আমার কোমড় ভেঙে গিয়েছে।’ বানসালি কিছুটা দয়াপরবশ হয়ে বলতেন, ‘‌ঠিক আছে, আমি সামলে নেব।’ কিন্তু পরের দিন সকালে তিনি আবার বলতেন, ‘‌আমি শটটা পাইনি।’ ফলে রণবীর সেটে এসে সেই একই শট দিলেন আরো ৭০ বার। তবে এভাবে একটি দৃশ্যের জন্য বার বার শট দেয়া অর্থাৎ ডিরেক্টর যতটা চায় তত শট দেয়ার জন্য ধৈর্য ধারণ করতে শিখিয়েছেন রণবীরকে। তাছাড়া বানসালিই রণবীরকে জীবনে ‘আত্মত্যাগের’ মূল্যও শিখিয়েছেন।


সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস