১৬৩তম রবীন্দ্রজয়ন্তী স্মরণে আজ মঞ্চায়ন হবে চিত্রাঙ্গদার। নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের প্রযোজনা চিত্রাঙ্গদার এটি বিশেষ মঞ্চায়ন। আজ ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত সৃষ্টি চিত্রাঙ্গদার গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। 

রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্য রূপে ও ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্য রূপে চিত্রাঙ্গদা রচনা করেন। স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপি অবলম্বনে। এর নাট্যকাহিনীতে উপস্থাপিত হয় মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্য ব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছে। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করে। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন ও যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। এবার অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়ে। কিন্তু তাকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে। অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসে, তার বাহ্যিক রূপ নাকি প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে নাটকটি পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপড়েন ও পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণা রূপে উপস্থাপন হয়। চিত্রাঙ্গদা ২০১১-এ সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষ উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানে নির্মাণ করে স্বপ্নদল। এরই মধ্যে প্রযোজনাটির ১১০টি সফল মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার (এনএসডি) আমন্ত্রণে ‘২৩তম ভারত রঙ্গ মহোৎসব ২০২৪’-এ ভুবনেশ্বর ও দিল্লিতে এর দুটি প্রদর্শনী করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় স্বপ্নদল।

এ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, অর্ক, জেবু, সুমাইয়া, সামাদ, ঊষা, আলী, বিপুল, নিসর্গ, হাসান, সুকুমার, বিমল, নিশক, শফিক, অনিন্দ্য প্রমুখ। প্রযোজনাটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ন।