বলিউডে হিড়িক পড়েছে রাজনৈতিক সিনেমা নির্মাণের। আগেও হতো, তবে তা ছিল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট। গত দশকে তারা পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয়কেও নিজেদের সিনেমায় নিয়ে এসেছে। সেক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যখন অন্য দেশের ঘটনাকে বলিউড প্রকাশ করে নিজের মতো। এক্ষেত্রে আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরিচালক এ কাজ করলেও এখন সবাই যেন তাই করছেন। পরিচালক হানসল মেহতা দারুণ সব সিনেমা নির্মাণের জন্য বিখ্যাত। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার সিনেমা ‘ফারাজ’। কিন্তু ভারতীয় দর্শক ও সমালোচকদের মতে সিনেমাটির গল্প বলার ধরণ মানসম্মত নয়। তবে হানসল মনে করেন, তিনি এমন সব গল্প নিয়ে কাজ করেন, যেগুলো হারিয়ে গেছে বা যাবে।
আলীগড়, ওমের্তা, শহীদ, সিমরানের মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন হানসল। শহীদ নিয়ে বলিউড ও বলিউডের বাইরেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। প্রতিটি সিনেমার গল্পই সাদামাটা, সাধারণ মানুষের জীবন, জীবিকা ও সংগ্রামের গল্প। সে সূত্রেই তিনি বলেন, আমি বক্স অফিসের খাতায় লাভের অংক বাড়াতে সিনেমা নির্মাণ করি না। সিনেমা নির্মাণ করি গল্প বলার শিল্পকে আবিষ্কার করতে। কিন্তু এ সময় তো বক্স অফিসকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে মনে করেন অভিনেতা ও নির্মাতারা। প্রযোজকরাও সে ধারার সিনেমায় বিনিয়োগ করেন। তাহলে হানসলের দর্শন কী?
ফিল্মফেয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হানসল বলেন, ওই প্রতিযোগিতায় আমি কখনো নামিনি। সপ্তাহের শেষ তিনদিনের হিসাব নিয়ে আমি ভাবি না। ভাবতে চাইও না। ওটা আমার জায়গা নয়। আমি এমন সিনেমা নির্মাণ করতে চাই, যা মানুষ মনে রাখবে। আমাদের সময়ে কী হয়েছিল, সে গল্পটা আমি সিনেমায় রেখে যেতে চাই। আমাদের সময়ের মানুষেরা কেমন ছিল, আমার সিনেমায় তা রাখার চেষ্টা করেছি। না হলে শহীদ বা ফারাজের মতো চরিত্রগুলো হারিয়ে যাবে। হানসল মেহতা সময়ের সত্যগুলো তার সিনেমায় রাখতে চান। সেক্ষেত্রে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন ধর্ম, রাজনীতি ও লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে বিরূপ অবস্থায় পড়া মানুষের প্রতি। ২০১২ সালে নির্মিত ‘শহীদ’ তাকে এনে দিয়েছিল খ্যাতি। কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন ব্যক্তি কতটা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে পারে বা যায়, সে গল্প বলেছিলেন তিনি। সিনেমাটি ২০১৩ সালে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিল। ২০১৪ সালের ‘সিটিলাইটস’ সিনেমায় বলেছিলেন মফস্বল থেকে শহরে এসে দ্রুতগতির জীবনে খেই হারানো একটি পরিবারের কথা। হানসল মানুষের গল্প বলেন।
বর্তমানে মানুষ খুব দ্রুতই সবকিছু ভুলে যায়। প্রতিদিন নতুন ঘটনা উন্মাদনা তৈরি করে। হানসল বলেন, পুরনো গল্পের দিকে আমরা আর ফিরে তাকাই না। কারণ সেগুলো মানুষের উন্মাদনার মধ্যে হারিয়ে যায়। আজকাল যারা চিৎকার করে নিজেদের জাহির করে, তাদের কথাই লিখে রাখা হয়। আমি তাই সে গল্পগুলো বলি, যা হারিয়ে যেতে পারে। আমার সিনেমার মধ্য দিয়ে সেগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি।
ফারাজ মুক্তি পেয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি। এখন তিনি কাজ করছেন নেটফ্লিক্সের সিরিজ স্কুপ নিয়ে। এছাড়া সনি লিভের জন্য একটি অ্যান্থোলজি নির্মাণ করছেন হানসল।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস









