সুপার মডেল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা-২০১৭’তে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্ল্যামার জগতে প্রবেশ করেন অভিনেত্রী জাহারা মিতু। সময়টা খুব বেশি নয়। অল্প দিনেই নিজের ঝুলিতে যোগ করেছেন দুটি চলচ্চিত্র, তিনটি ধারাবাহিক, উপস্থাপনাসহ আরো বেশকিছু কাজ। বর্তমানে নাটক বা উপস্থাপনার কাজ করছেন না। চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত করতেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন বলে টকিজকে জানালেন মিতু।

সম্প্রতি অভিনেতা রওনক হাসানের পরিচালনায় ‘বিবাহ হবে’ নামে বাংলাভিশনে একটি নাটকের প্রচার শুরু হয়েছে। এতে একাধিক শিল্পী অভিনয় করেছেন। অভিনয় করেছেন জাহারা মিতুও। ধারাবাহিকটি এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে। ‘বিবাহ হবে’ নাটকটির আলাপ তুলতেই মিতু জানালেন, প্রায় দেড় বছর আগে নাটকটির শুটিং করেছিলেন। তখনো তিনি চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেননি। নাটকে মিতুর চরিত্রের নাম পরী। মিতুর ভাষ্যে, ‘পরী’ সবার ড্রিম গার্ল। সবাই তার মতো মেয়েকে বিয়ে করতে চায়, সবাই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। নাটকটিতে মিতুকে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। এ ভাষায় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? ‘আমার জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। একজন প্রশিক্ষক ছিলেন, তিনি উচ্চারণ ঠিক করে দিতেন। বেশ মজা করে কাজটি করেছি।’ নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে কথায় কথায় জানালেন জাহারা মিতু।

নাটক ছেড়ে এবার চলচ্চিত্রে কাজের আলাপ জুড়ে দেয়া হয় মিতুর সঙ্গে। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুন’। প্রথম ছবিতেই তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন শাকিব খান। করোনার কারণে বর্তমানে শুটিং বন্ধ। তবে দ্রুত ছবিটির শুটিং শুরু হবে বলে আশাবাদী অভিনেত্রী মিতু।


ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লক হওয়ার ঠিক আগের দিন কলকাতা থেকে দেবের বিপরীতে ‘কমান্ডো’ ছবির শুটিং করে দেশে ফেরেন মিতু। ছবিটি বাংলাদেশী নির্মাতা শামীম আহমেদ রনির হলেও এতে অভিনয় করছেন দুই বাংলার শিল্পীরা। পশ্চিম বাংলায় ছবির কিছু শুটিং হয়েছে। আবারো শুটিং শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন মিতু। তবে তার যেন কোনো তাড়া নেই। অনেকটা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ্বাসী এ অভিনেত্রী। নিজেকে বরং আরো প্রস্তুত করতে চান। তাই তো সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন, থাকছেন ফিট। মিতুর কথায় জানা গেল, ‘কমান্ডো’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য নাকি তিনি ১২ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন। এখনো সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। ‘আমার চরিত্রটি একজন ডিফেন্স পারসনের। অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে করার চেষ্টা করেছি’—মিতু বলেন।

ক্যারিয়ারের প্রথম দুটি ছবিতেই দুই বাংলার জনপ্রিয় দুই অভিনেতার বিপরীতে অভিনয় করতে পারছেন বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন মিতু। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভোগার মানুষ তিনি নন। চলচ্চিত্র দুটিতে অভিনয়ের জন্য নিজেকে তৈরি করেন সর্বোচ্চ দিয়ে। চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর পর থেকে না বলে দেন নাটক আর উপস্থাপনাকে। মিতুর কথায়, ‘আমি একটা নতুন মাধ্যমে কাজ করছি। তাই এটার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাই। অনেক নাটকের প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু করিনি। আমি প্রধানত ক্রীড়া উপস্থাপনার কাজ করতাম, তাও করছি না।’ এমনকি করোনার সময় বাসায় থেকে কাজের প্রস্তাব পেয়েও কাজ করেননি জাহারা মিতু। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রেই আপাতত আমি মনোযোগী থাকতে চাই। ওজন কমিয়েছি। সেটা ধরে রাখতে কাজ করছি।’

স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ ও কলকাতা দুই জায়গাতেই কাজের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে মিতুর ঝুলিতে। কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পার্থক্য চোখে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে মিতু বলেন, ‘অভিনয়, ডেডিকেশন, যোগ্যতা—এগুলোর ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য আসলে নেই। কিন্তু তারা প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে।’

‘সুপার মডেল বাংলাদেশ ২০১৭’ হয়ে দেশের পতাকা আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়াকে নিজের সবচেয়ে গর্বের কাজ হিসেবে দেখেন জাহারা মিতু। এ অভিনেত্রী ফ্যাশন ডিজাইনে মাস্টার্স করেছেন চীনে। তিন বছর কাজ করেছেন একটি ফ্যাশন হাউজের ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান হিসেবে। নিজের স্বপ্ন আছে ফ্যাশন হাউজ খোলার। সেটার জন্য অপেক্ষাও করবেন তিনি। তবে আপাতত মন দিতে চান চলচ্চিত্রে। আগামীতে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, এমন প্রশ্নে মিতুর উত্তর, ‘আজকে আমি যেমন আছি তার চেয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই।’