অনশন শুরু করার দুদিন পর ইরানের আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহি শুক্রবার কারাগার থেকে সাময়িক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানের একটি মানবাধিকার সংগঠন ও তার সমর্থকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে ইরানের এভিন কারাগারে প্রায় সাত মাস অন্তরীণ থাকার পর মুক্ত হলেন তিনি। খ্যাতনামা এ নির্মাতাকে গত জুলাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আটক রাখার প্রতিবাদে বুধবার থেকে তিনি অনশন শুরু করেছিলেন।
অনশনের সময় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব। সম্ভবত আমার মরদেহ জেল থেকে মুক্তি পাবে।’ তার স্ত্রী এ বিবৃতি প্রকাশ করলে ইরানসহ সারা বিশ্বের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে তার মুক্তির খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন সবাই। ইরানের সিনেমাকর্মীদের সংগঠন ‘হাউজ অব সিনেমা’ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পানাহি সাময়িকভাবে এভিন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এতে তার পরিবার, আইনজীবী ও সিনেমা শিল্পের প্রতিনিধিরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন।’ ইরানের জাতীয় দৈনিক ‘শারক’-এ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, জেল থেকে বের হয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে এক ভক্তকে আলিঙ্গন করছেন জাফর পানাহি।
জাফর পানাহির মুক্তিতে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তার ফরাসি পরিবেশক হ্যালবারস্টাড। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অসাধারণ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দের। তার মুক্তির জন্য যারা প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তাদের সবার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। অফিশিয়ালি শাস্তি মওকুফ করাটাই তার পরবর্তী যুদ্ধ। তিনি বাইরে আছেন, তিনি মুক্ত, এটাই বড় ব্যাপার।’
ইরানের শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে গত ১১ জুলাই ৬২ বছর বয়সী এ নির্মাতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ছয় বছরের সাজা দেয়া হয়েছিল তাকে। গত ১৫ অক্টোবর ইরানের সুপ্রিম কোর্ট সে সাজা বাতিল করে পুনর্বিচারের আদেশ দেন। এতে তার আইনজীবীরা আশা করেছিলেন, তিনি মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু তাকে কারাগারেই আটক রাখা হয়।
সিনেমার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে উপস্থাপন করেছেন জাফর পানাহি। বয়ে এনেছেন বহু আন্তর্জাতিক সম্মান। দ্য সার্কেল সিনেমার জন্য তিনি ২০০০ সালে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার জয় করেন। ২০১৫ সালে ট্যাক্সি তেহরানের জন্য বার্লিনে গোল্ডেন বিয়ার অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে থ্রি ফেসেস সিনেমার জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতে নেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান










